ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ নয়, বরং ‘Personal Empowerment’ বা ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করা।
রাজনৈতিক মর্যাদা ও অস্তিত্বের সংকট
শেখ রবিউল আলম রবি জামায়াতকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমি জামায়াতকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না এবং সাধারণ জনগণও তাদের কোনো ‘Political Dignity’ বা রাজনৈতিক মর্যাদা স্বীকার করে না। তারা মূলত একটি গোষ্ঠীগত স্বার্থের রাজনীতি করে, যার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার অংশীদার হওয়া অথবা দেশের ‘Business’ ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা।”
জামায়াতের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে ‘অস্পষ্ট’ আখ্যা দিয়ে রবিউল প্রশ্ন তোলেন তাদের ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাদের বারবার ক্ষমা চাইতে হয়েছে। যাদের সারাজীবন ক্ষমা চেয়েই কাটাতে হয়, তারা রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার রাখে না। তাদের প্রতিটি কাজের জন্য যদি ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়, তবে বুঝতে হবে তারা সারাজীবন কেবল অন্যায়ই করেছে। এমন দলের ওপর জনগণ কীভাবে ‘Public Trust’ বা আস্থা রাখবে?”
‘প্রতারণার রাজনীতি’ বনাম জনকল্যাণ
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, জামায়াতের কার্যক্রম মূলত ‘প্রতারণার’ নামান্তর। তারা জনবিদ্বেষ ছড়িয়ে এবং নাগরিকদের বিভ্রান্ত করে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গুছিয়ে নিতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি প্রকৃত রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য হলো তাদের সব কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে ‘Open’ বা উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করবে, যা জামায়াতের মধ্যে অনুপস্থিত।
বিএনপির অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ও কর্মসংস্থান
নির্বাচনী প্রচারণায় রবিউল কেবল সমালোচনাই করেননি, বরং বিএনপির আগামীর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘Job Creation’ বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
এই লক্ষ্য অর্জনে ‘Foreign Investment’ বা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির (GDP) ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে বাস্তবমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘Social Safety Net’ বা সামাজিক সুরক্ষা খাতের পরিধি বাড়িয়ে সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও জানান তিনি।
ঢাকা-১০ ও হাজারীবাগের নাগরিক সমস্যা
ঢাকা-১০ আসনের তীব্র নাগরিক সংকটের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, এই এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মতো ‘Utility Services’-এর সংকট এখানে চরম আকার ধারণ করেছে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকে কার্যকর ও জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন। বিশেষ করে হাজারীবাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে হাজারীবাগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। বিএনপি সরকার গঠন করলে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় এই এলাকার মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”
নির্বাচনী মাঠের এই লড়াইয়ে রবিউলের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ঢাকার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।