• রাজনীতি
  • ‘বেশি শখ হলে বুড়িগঙ্গার পানি খান, তবু মাদক ছোঁবেন না’: ঢাকা-৮ এ ভোটযুদ্ধে নেমে হুঙ্কার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

‘বেশি শখ হলে বুড়িগঙ্গার পানি খান, তবু মাদক ছোঁবেন না’: ঢাকা-৮ এ ভোটযুদ্ধে নেমে হুঙ্কার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘বেশি শখ হলে বুড়িগঙ্গার পানি খান, তবু মাদক ছোঁবেন না’: ঢাকা-৮ এ ভোটযুদ্ধে নেমে হুঙ্কার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

মাদক সম্রাটদের বুড়িগঙ্গায় চুবানোর হুঁশিয়ারি; নির্বাচনী প্রচারণায় পেশিশক্তি ও কালো টাকার উৎসের সন্ধানে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর।

নির্বাচনী ময়দানে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে ঢাকা-৮ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা যখন ব্যস্ত, তখন এক ব্যতিক্রমী ও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগকালে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কেউ যদি মাদক বা অস্ত্রের আশ্রয় নেয়, তবে তাদের পরিনাম হবে ভয়াবহ।

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: বুড়িগঙ্গায় চুবানোর হুঁশিয়ারি

নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি নিশানা করেন এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাটদের। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় আসলে কেউ কারও হাতে অস্ত্র দেয়, কেউ মাদক দেয়। যদি বেশি খাওয়ার শখ থাকে, তবে বুড়িগঙ্গার পানি খান, তবুও ঢাকা-৮ এর মাটিতে মাদক সেবন করবেন না। যদি আরও খেতে ইচ্ছা করে তবে ময়লা খান, কিন্তু যুবসমাজকে ধ্বংস করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা এই এলাকায় মাদকের রাজত্ব কায়েম করেছে, তাদের সময় ঘনিয়ে এসেছে; তাদের বুড়িগঙ্গার পানিতে চুবিয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও কালো টাকার অভিযোগ

প্রচারণায় নেমে নিজের পোস্টার ও ব্যেনার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তোলেন এই প্রার্থী। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইলেকশন কমিশন (Election Commission)-এর নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড (Billboard) ব্যবহার করতে পারেন। অথচ এখানে একজন ‘মাদকসম্রাট’ প্রার্থী শত শত বিলবোর্ড লাগিয়ে শহর সয়লাব করে ফেলেছেন। এই বিপুল অংকের টাকার উৎস কী? এই টাকা কি মাদক বিক্রির নাকি সাধারণ মানুষের রক্ত চোষা চাঁদাবাজির?” তিনি অবিলম্বে এই ‘মানি পাওয়ার’ (Money Power) ও পেশিশক্তির দাপট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

গণতন্ত্র রক্ষা ও হকারদের অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা মনে করেন, কেবল সুন্দর স্লোগান দিয়ে দেশ চলে না; প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জোট সরকার গঠন করলে ‘হকার্স সমিতি’র সাথে জড়িত প্রান্তিক হকারদের অধিকার রক্ষা করা হবে। রাজধানী ঢাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা একটা সুন্দর ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাঁদাবাজি বা মাদকের সাথে নেই, তাই জনগণ আমাদের সাথেই থাকবে।”

১২ ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি: ভোটকেন্দ্র পাহারার ডাক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ (Election Engineering) বা ভোট চুরির আশঙ্কার কথা জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ করে নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ সহ্য করা হবে না। ১২ ফেব্রুয়ারি যারা কেন্দ্র দখল বা ফলাফল কারচুপির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

নির্বাচনী প্রচারণায় তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও সোজাসাপ্টা অবস্থান ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রথাগত রাজনৈতিক কৌশলের বাইরে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ‘অ্যান্টি-ড্রাগ’ (Anti-Drug) ক্যাম্পেইন ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।