নির্বাসিত নেতাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ
ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, তার এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার দেশে না ফেরার প্রধান কারণ হলো নিরাপত্তার অভাব। তিনি বলেন, "কারাগারে যেতে হবে, সেই ভয়ে কলকাতায় থাকছি— বিষয়টি এমন নয়। আমরা এখানে আছি; কারণ দেশে ফিরলে আমাদের হত্যা করা হবে।" এই মন্তব্য নির্বাসিত নেতাদের মধ্যে বিরাজমান গভীর আতঙ্কের চিত্র তুলে ধরে।
নির্বাচন ব্যর্থতার ওপর প্রত্যাবর্তনের আশা
আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতারা তাদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা মূলত আসন্ন নির্বাচনের 'ব্যর্থতা'র ওপর নির্ভর করছেন। তারা মনে করছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশে কোনো ধরনের স্থিতিশীলতা বা শান্তি আনতে পারবে না, যার ফলস্বরূপ জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ঝুঁকবে। এ কারণে তারা নিজেদের কর্মীদের নির্বাচন বর্জন এবং এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
কর্মীদের প্রতি বর্জনের বার্তা
সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এই নির্দেশনা নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা আমাদের কর্মীদের সব ধরনের নির্বাচনকেন্দ্রিক সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকতে, প্রচার ও ভোট বর্জন করতে এবং মোটের ওপর এই প্রহসনের প্রক্রিয়ায় অংশ না হতে বলছি।" এই বার্তা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশলগত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
স্বল্পমেয়াদী নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা
কলকাতায় অবস্থানরত নির্বাসিত নেতারা বিশ্বাস করেন যে, ভারতে তাদের এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা দেশের মাটিতে ফিরতে পারবেন। তাদের ধারণা, দেশে ফিরলে হয়তো কিছুদিন জেল খাটতে হতে পারে, তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, "এখন আমাদের জন্য সবকিছু খুব খারাপ। কিন্তু মনে করি না যে বেশি দিন এমন থাকবে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং দলের অবস্থান
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী দুঃশাসনের ইতি ঘটলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নিলে জনগণের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। একইসাথে শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের জন্য দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের বিদ্রোহ হিসেবে মানতে নারাজ। তারা একে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে।