রাজধানীতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের স্বজন ও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের আগেই অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাত্রা ও পুলিশের বাধা বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের স্ত্রী এবং সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে পথিমধ্যে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে তারা রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে বসে পড়েন এবং সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিচারের বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থহীন আশ্বাস না আসা পর্যন্ত তারা এই রাজপথ ছাড়বেন না।
১২ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন ও ইনকিলাব মঞ্চের দাবি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে ফেলার চেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই মামলার বিচার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, মূল ঘটনা থেকে মিডিয়ার দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিচারকাজকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে। বিচারের দাবিতে এই 'সিট-ইন প্রোগ্রাম' (Sit-in Program) বা অবস্থান ধর্মঘট প্রয়োজনে আমরণ কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংহতি ও সংহতি প্রকাশ ইনকিলাব মঞ্চের এই ন্যায়বিচার দাবির কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) মুখ্য সমন্বয়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, "শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্বচ্ছ বা স্পষ্ট বার্তা পাইনি। একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং এই এলাকার প্রার্থী হিসেবে আমি যেকোনো ন্যায্য দাবির পাশে থাকবো।" তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিচারের দাবিতে অনড় স্বজনরা হাদি হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হাদিকে প্রাণ দিতে হয়েছে, অথচ তদন্তের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। নির্বাচনের ডামাডোলে এই হত্যাকাণ্ড যেন ধামাচাপা না পড়ে, সেজন্যই তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিন্টো রোড ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।