• ব্যবসায়
  • টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিসে বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্রে ৮ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্ডার!

টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিসে বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্রে ৮ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্ডার!

ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্রখাত প্রায় ৮.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাজ পেয়েছে।

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিসে বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্রে ৮ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্ডার!

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক 'টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস' প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্রখাত এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৮.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য ও নিশ্চিত কাজের অর্ডার লাভ করেছে। এটি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও বস্ত্রপণ্যের প্রতি ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

সাফল্যের বিস্তারিত

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা টেক্সওয়ার্ল্ডে 'বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন' উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি বাংলাদেশি সব স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিনিস্টার কমার্শিয়াল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ১৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মোট ৮.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার অর্জিত হয়েছে।

ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে যে অর্ডার প্রাপ্তির পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। প্রদর্শনীতে ফলপ্রসূ ব্যবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও, সরাসরি অংশগ্রহণ করা ১১টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানও ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ ও আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় অ্যাপারেল সোর্সিং বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে।

রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

রাষ্ট্রদূত এম তালহা মনে করেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় টেক্সওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও পরামর্শ দেন যে এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ইউরোপের নতুন প্রযুক্তি, পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ট্রেন্ড এবং কাঁচামাল ও অ্যাকসেসরিজ সোর্সিং সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবেন, যা ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সুদৃঢ় করবে।

পেশাদার ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর

প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে স্বল্পমূল্যের প্রস্তুত স্টলের পরিবর্তে বড় পরিসরের খালি স্থান ভাড়া নিয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে থিমভিত্তিক নকশা ও সজ্জা করার ওপর রাষ্ট্রদূত জোর দেন। একই সঙ্গে, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পেশাদার ব্র্যান্ডিং প্রচারের গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন বস্ত্র ও পোশাক সোর্সিংয়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশি প্রদর্শকদের শক্তিশালী উপস্থিতি গুণগত উৎপাদন, কমপ্লায়েন্স, টেকসই উদ্যোগ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে।

Tags: export bangladesh garments rmg textworld paris textile trade fair order