• খেলা
  • ‘ছেলেদেরও পেছনে ফেলে এগিয়ে যেত জাইমা’: চেলসির প্রস্তাব নিয়ে কোচের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ

‘ছেলেদেরও পেছনে ফেলে এগিয়ে যেত জাইমা’: চেলসির প্রস্তাব নিয়ে কোচের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘ছেলেদেরও পেছনে ফেলে এগিয়ে যেত জাইমা’: চেলসির প্রস্তাব নিয়ে কোচের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ

ঢাকা আইএসডিতে জাইমা রহমানের অবিশ্বাস্য ক্রীড়া নৈপুণ্য ও অদম্য মানসিকতার গল্প শোনালেন তাঁর সাবেক কোচ মোহাম্মদ হাকিম; চেলসি উইমেন টিমে খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে যোগ হলো নতুন মাত্রা।

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তবে সম্প্রতি তাঁর আইনি পেশা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর শৈশবের অসাধারণ ক্রীড়া প্রতিভা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ফুটবল ক্লাব ‘চেলসি এফসি’ (Chelsea FC)-এর বয়সভিত্তিক বা উইমেন টিমে তাঁর খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া দিলেন জাইমার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিম।

শৈশবের অ্যাথলেটিক প্রতিভা ও কোচের পর্যবেক্ষণ সোমবার (২৩ মার্চ) এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমানের সাবেক কোচ মোহাম্মদ হাকিম তাঁর ছাত্রীর শৈশবের ক্রীড়া দক্ষতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, জাইমার মধ্যে যে বিশেষ প্রতিভা ছিল, তা কেবল সাময়িক কোনো ঝলক ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল। জাইমা যখন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (ISD)-তে পড়তেন, তখন থেকেই তিনি অ্যাথলেটিক (Athletic) অঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

কোচ হাকিম তাঁর পোস্টে লেখেন, “জাইমা রহমানকে নিয়ে আমার এই বিশ্বাস আজকের নয়। সে যখন আমার তত্ত্বাবধানে ছিল, তখন ফুটবল, সাঁতার এবং দৌড়—প্রতিটি বিভাগেই সে অসাধারণ পারফরম্যান্স (Performance) প্রদর্শন করত। সে ছিল আক্ষরিক অর্থেই একজন ‘ন্যাচারাল ট্যালেন্ট’।”

‘ছেলেরাও পারত না দৌড়ে টেক্কা দিতে’ কোচ হাকিমের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে জাইমার হার না মানা মানসিকতার গল্প। তিনি দাবি করেন, জাইমা কেবল মেয়েদের মধ্যেই নয়, বরং দৌড়ের ট্র্যাকে ছেলেদেরও পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতেন। তাঁর মতে, জাইমার এই ‘উইনিং মেন্টালিটি’ (Winning Mentality) বা জ জয়ের মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাইমা সাঁতারে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার অদম্য চেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করত। তাই সে যদি চেলসি উইমেন টিমের (Chelsea Women Team) মতো কোনো বিশ্বসেরা ক্লাবে খেলার আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলে থাকে, তবে আমি তাতে মোটেও অবাক হবো না। তাঁর সেই সামর্থ্য ও দক্ষতা সত্যিই ছিল।”

বিতর্ক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাইমা রহমানের চেলসিতে খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী তাঁর অবস্থানের ব্যাখ্যা দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল রয়েই যায়। কোচের এই নতুন বক্তব্য সেই কৌতূহলকে আরও জোরালো করল এবং জাইমার ক্রীড়া জীবন সম্পর্কে এক ধরণের সত্যতা নিশ্চিত করল।

ক্রীড়াঙ্গন থেকে ব্যারিস্টারি: বহুমুখী জাইমা রহমান শৈশবে একজন তুখোড় অ্যাথলেট (Athlete) হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, জাইমা রহমান বর্তমানে একজন সফল ব্যারিস্টার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তবে খেলাধুলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনো অমলিন। বর্তমানে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন (Women Empowerment), সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Security), জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিশুদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো আন্তর্জাতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। একজন প্রফেশনাল (Professional) ব্যারিস্টার হওয়ার পাশাপাশি তাঁর এই ক্রীড়াবিদ সত্তা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ অনুপ্রেরণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের এই স্পোর্টসম্যানশিপ এবং শৃঙ্খলাবোধই জাইমা রহমানকে আজকের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

Tags: chelsea fc women empowerment zaima rahman women football sports talent athletic performance isd school sports coach social impact zaima biography