বিদ্রোহী প্রার্থীর মিছিলে হামলা শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলামের শতাধিক কর্মী 'কলসি' প্রতীকের সমর্থনে কচুয়া বাজারে মিছিল বের করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিছিলটি বিএনপির মূল প্রার্থীর 'ধানের শীষ' প্রতীকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হামলা চালানো হয়। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর ১২ জন কর্মীকে মারধর করা হয় এবং তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহতদের মধ্যে ফারুক হোসেন, জালাল উদ্দিন, সম্রাট আলী, শরিফুল ইসলাম, মো. পান্না, জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনের নাম জানা গেছে।
বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টা ভাঙচুর স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে হামলার পরপরই ধানের শীষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী বজলুর রহমান জানান, কলসি প্রতীকের মিছিল কার্যালয়ের সামনে পৌঁছাতেই হামলা শুরু হয়, মুহূর্তে বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকে। পরে ধানের শীষের কার্যালয়ের কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আহতদের হাসপাতালে ভর্তি খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর আহত কর্মীদের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার কর্মীরা শান্তিপূর্ণ প্রচার মিছিল করছিল, কিন্তু ধানের শীষের কার্যালয় থেকে দুষ্কৃতকারীরা হামলা করে। তার এক কর্মীর অবস্থা গুরুতর।
কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার তবে ধানের শীষের প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মো. বাবু এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'কলসির মিছিল থেকে আমাদের কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়।'
পুলিশের ভূমিকা ও আইনানুগ ব্যবস্থা লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুল হক বলেন, খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।