• দেশজুড়ে
  • বন্ধ ৩ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট, সুন্দরগঞ্জে বর্জ্যের পাহাড়ে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

বন্ধ ৩ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট, সুন্দরগঞ্জে বর্জ্যের পাহাড়ে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার 'সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট' এক বছর ধরে বন্ধ। জনবল সংকট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যা বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বন্ধ ৩ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট, সুন্দরগঞ্জে বর্জ্যের পাহাড়ে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত 'সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট'টি হস্তান্তরের এক বছর পরও চালু হয়নি। এর ফলে পৌর এলাকার মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় তৈরি হয়েছে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও লোকবল সংকটের কারণে প্ল্যান্টটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও প্ল্যান্টের নির্মাণ

৬.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব কঠিন ও মানব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় 'পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প' নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ টাকা ব্যয়ে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'টার্ন' কাজ শেষে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্ল্যান্টটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

অব্যবহৃত প্ল্যান্ট এবং বর্জ্যের স্তূপ

প্ল্যান্টটি হস্তান্তরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও লোকবল সংকট এবং পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পৌরসভায় বর্জ্য পরিবহনের জন্য ৫টি সিএনজিচালিত অটোভ্যান, ২টি মিনি ট্রাক ও মানব বর্জ্য পরিবহনের জন্য ২টি ট্যাংকার থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, মীরগঞ্জ বাজারের আবাসিক এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমছে এবং বাজারের মাঝপথের ড্রেন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। একটি সিএনজি অটোভ্যান চালক জানান, পর্যাপ্ত চালক না থাকায় শুধু শহর ও হাট-বাজারের ময়লা আনা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত বর্জ্য এখন পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।

প্ল্যান্টের অবকাঠামো ও বর্তমান অবস্থা

প্ল্যান্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানব বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে সুপেয় পানি উৎপাদনের অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত। ছাঁকনি ও তিন স্তরের ফিল্টার (পাথর ও মোটা বালু) ব্যবহার করে বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, একটি পৃথক ভবনে কঠিন বর্জ্য বাছাই করে লোহালক্কড়, প্লাস্টিক ও পচনশীল অংশ আলাদা করে জৈবসার উৎপাদনের ব্যবস্থাও তৈরি। তবে, স্থানীয়দের মতে, পরীক্ষামূলকভাবে ৫-৬ মাস চলার পর প্ল্যান্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে জমে থাকা বর্জ্য প্ল্যান্ট এলাকাতেই পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভোগান্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় এবং ময়লা পোড়ানোর কারণে নির্গত ধোঁয়া শ্বাস নেওয়া কঠিন করে তুলছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য। তারা দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর দাবি জানান। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, লোকবল সংকটের কারণে তারা ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত প্ল্যান্টের তদারকি করবেন, এরপর পৌরসভাকে পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্ল্যান্ট কবে চালু হবে— এমন প্রশ্নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি জানান, লোকবল সংকটের জন্যই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন শেষে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tags: public health environmental pollution waste management gaibandha sundarganj municipality integrated solid and human waste management plant