মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ২ কোটি টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে রিগ্রেট বা আক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “আমাদের বোর্ড এবং খেলোয়াড়রা দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা নজিরবিহীন। আইসিসি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে তারা বাংলাদেশকে কোনও শাস্তি দেবে না, বরং বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি একটি ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট। আমি স্যালুট জানাতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। এমন সিদ্ধান্ত আসলে দশবারই এমনটা নেওয়া উচিত।”
বিকেএসপি পরিদর্শন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস ইনস্টিটিউট’ করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তবে স্বল্প পরিসরে ফুটবল, আর্চারি ও টেবিল টেনিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিসিবির কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তা আর এগোয়নি বলে তিনি জানান।
উপদেষ্টা হিসেবে নিজের মেয়াদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “খেলাধুলা আমার প্যাশন। খেলা মানুষকে অনেক খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে। কিছইু করতে পারেনি ধরতে পারেন। বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রীর এক আত্মীয় রেস্টুরেন্ট বানিয়ে দখল করেছিল, বিশাল জায়গা সেটা খালি করে কিছু ফেডারেশনের জাতীয় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুবকদের নিয়ে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে।”
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর যিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবেন, তার প্রতি পরামর্শ দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “ভবিষ্যতে যারা আসবেন, তাদের প্রতি অনুরোধ— শুধু ক্রিকেটকে প্রাধান্য দেবেন না। আমি পাঁচ বছর থাকলে কাবাডি, দাবা ও ফুটবলকে সমান গুরুত্ব দিতাম। ক্রিকেট আমাদের অনেক সাফল্য দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু অন্য খেলাগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিসিবির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। এসময় বিসিবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।