• জাতীয়
  • ব্যালটে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যলিপি: ২৯৯ আসনে ভোট ও ঐতিহাসিক গণভোট কাল

ব্যালটে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যলিপি: ২৯৯ আসনে ভোট ও ঐতিহাসিক গণভোট কাল

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ব্যালটে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যলিপি: ২৯৯ আসনে ভোট ও ঐতিহাসিক গণভোট কাল

দীর্ঘ সংস্কার ও ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটির বেশি ভোটার; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে আজ মধ্যরাতের পরই শুরু হচ্ছে মাহেন্দ্রক্ষণ।

অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টার। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই আর ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও টানটান উত্তেজনা। এবারের নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত বৈধতা দেবেন দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার।

গণভোট ও সংসদ নির্বাচন: একই দিনে দ্বৈত ইতিহাস

এবারের নির্বাচন কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। কারণ, একই দিনে সংসদীয় আসনের ভোটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় গণভোট’ (National Referendum)। মূলত সংবিধান সংস্কার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি জনগণের রায় নিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

পতন থেকে পুনর্গঠন: যে পথ পাড়ি দিয়ে এই নির্বাচন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Interim Government)। রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এরপর এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ ও স্বচ্ছ ব্যালট বক্স নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে। গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বেতার ও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমেই শুরু হয় এই মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা।

পরিসংখ্যান ও বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি

এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপ্তি অতীতের অনেক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। সারা দেশে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ২৭৩ জন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:

মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন।

ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা: ৪২ হাজার ৭৭৯টি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ২ হাজার ২৮ জন।

নিবন্ধিত দল: ৫০টি।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার নিশ্চিয়তা

একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছ ব্যালট পেপার এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও দেশীয় সাংবাদিকরা এই ‘Transition Period’ বা গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে তারা তাদের পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

আগামীকালের এই ভোট কেবল নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ। ব্যালট বাক্সে জমা হওয়া প্রতিটি ভোটই আগামীর বাংলাদেশের নতুন গন্তব্য নির্ধারণ করবে।