অবশেষে দেশের নারী ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াচ্ছে ‘নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ’ (W-BPL)। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এই টুর্নামেন্ট চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবতা: নেতৃত্বের পরিবর্তন ও নারী বিপিএল
গত কয়েক বছর ধরেই নারী ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বিপিএলের আদলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি তোলা হচ্ছিল। সাবেক বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মেয়াদে একাধিকবার এই টুর্নামেন্ট শুরুর গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে ২০২৪ সালে বোর্ড নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর ফারুক আহমেদ এবং পরবর্তীতে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ২০২৫ বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট চলাকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নারী ক্রিকেটারদের এই টুর্নামেন্টের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই কথা রাখতেই এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী বিপিএলের উদ্বোধনী সিজন। বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে দেশের নারী ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়নের বড় এক ‘ব্রেক-থ্রু’ হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
টুর্নামেন্ট ফরম্যাট ও বিদেশি ক্রিকেটারের চমক
প্রথমবারের এই আসরটি প্রাথমিকভাবে তিনটি দল নিয়ে শুরু হচ্ছে। ছেলেদের বিপিএলের মতো এখানেও দল গঠনের প্রক্রিয়া হবে ‘ড্রাফট’ (Draft) পদ্ধতিতে। প্রতিটি দলে দেশীয় প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি থাকবেন বিদেশি ক্রিকেটাররাও (International Stars)। তবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কতজন বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে কিংবা প্লেয়িং ইলেভেনে কতজন বিদেশি থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত গাইডলাইন এখনো প্রকাশ করেনি বিসিবি।
টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি (Full Schedule), ভেন্যু এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নাম শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের প্রধান দুই ভেন্যু ঢাকা ও সিলেটে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে পারে। ঘরোয়া নারী ক্রিকেটারদের জন্য এই লিগটি কেবল আর্থিক স্বচ্ছলতাই আনবে না, বরং বড় মঞ্চে খেলার মানসিকতা ও অভিজ্ঞতায়ও প্রভাব ফেলবে।
কেন এই টুর্নামেন্ট নারী ক্রিকেটে ‘গেম-চেঞ্জার’?
বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত (WPL), অস্ট্রেলিয়া (WBBL) এবং ইংল্যান্ডে নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশে নিগার সুলতানা জ্যোতি বা মারুফা আক্তারদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এই আসরটি একটি ‘প্রাইমারি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টটি এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যাতে ব্রডকাস্ট এবং মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের নতুন ‘মার্কেট ভ্যালু’ তৈরি হয়।
নির্বাচন পরবর্তী উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেও খেলার মাঠে নারী বিপিএলের এই আগমন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ইতিবাচক আবহের সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেটারদের দীর্ঘ অপেক্ষার ফসল এখন কেবল ৩ এপ্রিলের টস হওয়ার অপেক্ষা।