পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের যুগলবন্দি
বাংলা একাডেমির সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন থেকে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে উদযাপিত হয়। ফলে উৎসবপ্রিয় বাঙালির কাছে দিনটির গুরুত্ব অনেক গুণ বেড়ে গেছে। রঙিন পোশাক, বাসন্তী শাড়ি আর হাতে ফুলের মালা জড়িয়ে আজ রাজপথে বেরিয়েছে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ।
ফুলের বাজারে আগুনের উত্তাপ
উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ফুলের চাহিদা বেড়েছে তুঙ্গে। শাহবাগের ফুল বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরিবারসহ ফুল কিনতে আসা মো. জুম্মান (২৫) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশ বেশ ভালো লাগছে, কিন্তু ফুলের দামটা এবার একটু বেশি।” দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ফুল ব্যবসায়ী আজিম হোসেন বলেন, “দাম তো আমরা বাড়াইনি, আমরা যাদের থেকে কিনি তারা বাড়িয়েছে। কিছু দিন আগেও ফুলপ্রতি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হলেও আজ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
ক্যাম্পাসজুড়ে রঙিন আবহ
বসন্ত উৎসবের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এবার কোনও আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় উৎসবের কোনও কমতি নেই। চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আজাহারুল ইসলাম শেখ বলেন, “আমাদের অনুষদ থেকে এবার আনুষ্ঠানিক কোনও আয়োজন নেই, কোনোবারই থাকে না। কিন্তু ঐতিহ্যটা হলো ছেলেমেয়েরা ঘোরাঘুরি করতে থাকে, মেয়েরা সেজে আসে। এটা চারুকলা থেকে শুরু হয়েছিল, এখন সারা ক্যাম্পাসেই হয়।”
নতুন পঞ্জিকা
বাংলা একাডেমির সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হয়। লিপ-ইয়ারের ক্ষেত্রে ফাল্গুন ৩০ দিন হয়। মূলত ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক দিনগুলোর সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি তারিখের সামঞ্জস্য আনতেই পঞ্জিকার এই নতুন সংস্কার।
ঋতুরাজের আগমনী বাতাস আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উষ্ণতায় আজ বাঙালির যাপিত জীবন হয়ে উঠবে উৎসবমুখর ও রঙিন।