ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ে সদর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ স্থানীয় আ. লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে দিয়েছে বিএনপি'র সভাপতি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের এই উদ্যোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে জেলাসহ সারাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার সকালে বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা খুলে দিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতিহীনভাবে এলাকায় থাকার আশ্বাস দেন।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বলতে শোনা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত করে অবমুক্ত করেছেন।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা খুলে আবু দাউদ প্রধান জানান, আমি আজ জানতে পারলাম আওয়ামী লীগ অফিসটি তালাবদ্ধ। আপনারা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। এলাকায় কোনো প্রকার উত্তেজনা তৈরি না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই আমি অফিসটি খুলে দিয়েছি। এটি আমার দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়, ব্যক্তিগতভাবে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে এই উদ্যোগ।
উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, আপনাদের গায়ে যদি কেউ কোনো আঁচড় দেয়, তবে আমাকে জানাবেন। তবে কোনো অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেব না। প্রত্যেক দলেই কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক থাকে, তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
অফিসটি খুলে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, অফিসটি আপাতত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হবে না। তিনি বলেন, আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এই অফিসে বসব। তবে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব ‘মিথ্যা মামলা’ হয়েছে, সেগুলো থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয়—সেই অনুরোধ আমি আবু দাউদ প্রধানের কাছে জানিয়েছি।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, দেশ ও জাতীয় পতাকার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা দলমত নির্বিশেষে এলাকায় শান্তিতে থাকতে চাই।
এদিকে, আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।