• দেশজুড়ে
  • রংপুরে জাপার অহংকার চূর্ণ

রংপুরে জাপার অহংকার চূর্ণ

► ভুল সিদ্ধান্ত, দলীয় কোন্দল, দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি ► সবকটি আসনেই জাপার শোচনীয় পরাজয়

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রংপুরে জাপার অহংকার চূর্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ঘাঁটি বলে দাবি করা জাতীয় পার্টির অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। এর একটিতেও জিততে পারেননি জাপা প্রার্থীরা। সবকটি আসনেই জাপার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। অপরদিকে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের একটিতেও জিততে পারেনি বিএনপি প্রার্থীরা। সবকটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। পীরগঞ্জ আসন বাদে প্রতিটি আসনেই হারের অঙ্ক ছিল বড়। বিএনপি হারার পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে তা হলো প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত। দলীয় কোন্দল। দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবন্ধ করতে পারেননি রংপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের হাত ধরে রংপুর জাপার দুর্গ হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় পার্টি রংপুর সদর আসন নিজেদের দখলে রেখেছিল। এ ছাড়া রংপুরের আরও কয়েটি আসনে ছিল জাপার একক অধিপত্য। এরশাদের মৃত্যুর পরে দলটি বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়লে ঐতিহ্য হারাতে থাকে। জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হওয়ার পর রংপুরের সঙ্গে তার তেমন একটা যোগাযোগ ছিল না। নির্বাচনের দিনও তাঁকে কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। একটি সময় রংপুরের মানুষ জাতীয় পার্টির লাঙলকে ভুলে যেতে বসে। ধীরে ধীরে জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে জামায়াতে ইসলামী। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে থাকে। দলকে সুসংগঠিত করতে থাকে। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সুফল পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রংপুর সদর-৩ আসন জামায়াতের প্রার্থীর কাছে সোয়া লাখের বেশি ভোট ব্যবধানে হেরে তৃতীয় হয়েছেন জি এম কাদের। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। আর এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। অন্যান্য আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থা আরও করুন।

রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় রংপুরের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হলো বলে মনে করছেন অনেকেই।

Tags: রংপুরে জাপার অহংকার চূর্ণ