• রাজনীতি
  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৩০ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করছে ১১ দলীয় জোট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৩০ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করছে ১১ দলীয় জোট

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৩০ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করছে ১১ দলীয় জোট

তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় শরীক দলগুলো; সংসদ ও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছে এই রাজনৈতিক জোট। একই সঙ্গে নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়াকে ‘সন্দেহজনক’ আখ্যা দিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে শরীক দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনি লড়াই ও আরপিও (RPO) বিতর্ক

বৈঠক শেষে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অপ্রত্যাশিত ক্ষিপ্রতায় গেজেট (Gazette Notification) প্রকাশ করা হয়েছে। জোটের দাবি, এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী আইন বা RPO (Representation of the People Order) অনুযায়ী অনেক আসনে প্রার্থীদের ভোট পুনঃগণনার (Recount) যে আইনি সুযোগ ছিল, তা কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রতিকার পেতে এবং যেসব আসনে সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (Writ Petition) করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট। বিশেষ করে ৩০টিরও বেশি আসনে বড় ধরনের কারচুপির তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে (EC) যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

সংসদ ও রাজপথে অবিচল ঐক্য

নির্বাচনী লড়াইয়ের পর জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এদিনের বৈঠকে নতুন বার্তা দিয়েছেন নেতারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই ১১ দলীয় ঐক্য কেবল ভোটের ময়দানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামীতে জাতীয় সংসদের ভেতরে এবং বাইরেও এই জোট অটুট থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ইস্যুতে জোটগতভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এনসিপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা ও লেবার পার্টিসহ অন্যান্য শরীক দলের প্রতিনিধিরা জোটবদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেন।

জুলাই সনদ ও উচ্চকক্ষ গঠন

বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে (Referendum) ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (Proportional Representation) আসন পাওয়ার আইনগত ভিত্তি পেয়েছে। জনগণ যেহেতু এই সংস্কারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই এখানে কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (Note of Dissent) দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সহিংসতার প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি

নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী সময়ে জোটের নারী কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বন্ধ না হয়, তবে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। ফ্যাসিবাদী অপশক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করে জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোটের এই আইনি পদক্ষেপ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা ত্রয়োদশ সংসদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।