• আন্তর্জাতিক
  • ১৯৬৭ সালের পর প্রথম: অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ করার অনুমোদন দিল ইসরায়েল

১৯৬৭ সালের পর প্রথম: অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ করার অনুমোদন দিল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
১৯৬৭ সালের পর প্রথম: অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ করার অনুমোদন দিল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাস করতে উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রীদের বিশেষ নীল নকশা; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন মাহমুদ আব্বাস

দখলদারিত্বের নতুন ইতিহাস: ফিলিস্তিনি ভূমি নিবন্ধনের ঘোষণা

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে চলা দীর্ঘ দখলদারিত্বের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরের (West Bank) বিশাল এলাকাকে নিজস্ব ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি ফিলিস্তিনিদের তাদের পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদের এক বড় প্রশাসনিক অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন (KAN)-এর বরাত দিয়ে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নেপথ্যে উগ্র ডানপন্থি ত্রয়ী: নিবন্ধনের আইনি জটিলতা

প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিম তীরের ভূমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে রূপান্তরের এই প্রস্তাবটি যৌথভাবে জমা দিয়েছিলেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ (Bezalel Smotrich), বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৬৭ সালে দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল কৌশলে ভূমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে বর্তমানে পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি জমি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। নিবন্ধনের এই পথটি নতুন করে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে এখন ফিলিস্তিনিদের মালিকানা অগ্রাহ্য করে সেই জমিগুলো ইহুদি বসতকারীদের (Settlers) কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা কয়েক গুণ সহজ হয়ে যাবে।

কর্তৃত্ব বৃদ্ধি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা হরণ

ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদিত এই নতুন ব্যবস্থায় ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক ও প্রশাসনিক শাসনকে আরও নিরঙ্কুশ করার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এর ফলে ‘ফিলিস্তিনি অথরিটি’ বা পিএ-র (Palestinian Authority) প্রশাসনিক এখতিয়ার কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়বে। ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতিটি এখন এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা আইনি বৈধতা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে।

তীব্র আন্তর্জাতিক নিন্দা ও ফিলিস্তিনি প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ অবৈধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষকে এই অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে।

কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত এক বিশাল অস্থিরতা (Diplomatic Tension) তৈরি করেছে। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মিশর এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) চাপিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

ইসরায়েলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টাকে আরও এক দফা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Tags: international law donald trump israel palestine west bank middle east crisis settlement expansion mahmoud abbas land grab state property