• আন্তর্জাতিক
  • কূটনীতির টেবিলে কি সম্ভব অলৌকিক কিছু? খামেনির সঙ্গে ‘মুখোমুখি’ সংলাপে বসতে রাজি ট্রাম্প

কূটনীতির টেবিলে কি সম্ভব অলৌকিক কিছু? খামেনির সঙ্গে ‘মুখোমুখি’ সংলাপে বসতে রাজি ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কূটনীতির টেবিলে কি সম্ভব অলৌকিক কিছু? খামেনির সঙ্গে ‘মুখোমুখি’ সংলাপে বসতে রাজি ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব ওয়াশিংটনের; তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতে সামরিক প্রস্তুতির হুঁশিয়ারিও বহাল।

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা, অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নজিরবিহীন আলোচনার হাতছানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সাক্ষাৎকারে এই ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন একটি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চায়। তবে এই আলোচনার প্রস্তাবের সমান্তরালে তেহরানের ওপর সামরিক চাপের রণকৌশলও সমানতালে বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।

সংলাপের টেবিলে ট্রাম্পের ‘ওপেন ডোর’ পলিসি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ব্লুমবার্গকে (Bloomberg) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো জটিল পরিস্থিতির সমাধানে সরাসরি আলাপচারিতায় বিশ্বাসী। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর প্রথম পছন্দ হলো ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো। যদিও বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন (Very Tough), তবুও তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে চান।”

রুবিও আরও যোগ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একজন লিডার যিনি সংকটের সমাধানে ‘যেকোনো ব্যক্তির’ সঙ্গে দেখা করতে দ্বিধা করেন না। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, “যদি আগামীকাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চান, তবে প্রেসিডেন্ট তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।” তবে এই বৈঠকের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প খামেনির মতাদর্শের সঙ্গে একমত, বরং তিনি মনে করেন সরাসরি সংলাপ বা ‘Face-to-Face Dialogue’ হলো বড় সমস্যা সমাধানের একমাত্র কার্যকর উপায়।

পারমাণবিক অস্ত্র ও সামরিক হুঁশিয়ারি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (Nuclear Program) নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র। রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর মতে, তেহরানের হাতে এমন মারণাস্ত্র আসা মানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক নিরাপত্তার (Global Security) জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।

এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী বা ‘Aircraft Carrier’ মোতায়েন করা হয়েছে। রুবিও সাফ জানিয়েছেন, অতীতে ইরান একাধিকবার মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হেনেছে। তাই ইরানের যেকোনো ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ মোকাবিলায় এবং বড় ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা রুখতে ওই অঞ্চলে পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা (Military Capability) বজায় রাখা ওয়াশিংটনের কৌশলগত বা ‘Strategic’ অগ্রাধিকার।

যুদ্ধের প্রস্তুতি ও চরম অনিশ্চয়তা কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই সামরিক গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের সামরিক অভিযানের (Military Operation) প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। দুইজন পদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দেওয়া মাত্রই এই হামলা শুরু হতে পারে। পরিস্থিতি যদি সেই পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে তা দুই দেশের ইতিহাসের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখানে ‘ক্যারেট অ্যান্ড স্টিক’ (Carrot and Stick) নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশাল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরানকে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান ওয়াশিংটনের এই সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া দেয় নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।

Tags: middle east donald trump white house ayatollah khamenei global security military operation marco rubio nuclear deal iran usa diplomacy news