• জাতীয়
  • বঙ্গভবনে কি পরিবর্তনের হাওয়া? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বর্তমান জটিলতা নিয়ে যা বলছে সংবিধান

বঙ্গভবনে কি পরিবর্তনের হাওয়া? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বর্তমান জটিলতা নিয়ে যা বলছে সংবিধান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
বঙ্গভবনে কি পরিবর্তনের হাওয়া? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বর্তমান জটিলতা নিয়ে যা বলছে সংবিধান

তারেক রহমানের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ না অভিশংসন—কোন পথে হাঁটবে সংসদ? জেনে নিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নির্বাচনের আদ্যোপান্ত সমীকরণ।

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব মহলের দৃষ্টি এখন বঙ্গভবনের দিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কি পদে বহাল থাকছেন, নাকি শীঘ্রই নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম রাজনীতির অন্দরমহল।

সংবিধানের রক্ষাকবচ ও বর্তমান বাস্তবতা

আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তার পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠলেও বিএনপি শুরু থেকেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার কাছেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, মো. সাহাবুদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে কিংবা সংসদের মাধ্যমে অভিশংসিত (Impeachment) না হলে আইনত এই পদ শূন্য হওয়ার সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবালের মতে, "সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া নতুন কাউকে এই পদে বসানো সম্ভব নয়।"

‘আলংকারিক’ পদ থেকে শক্তিশালী হওয়ার পথে রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদকে মূলত ‘Ceremonial Head’ বা আলংকারিক হিসেবে দেখা হয়। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন; অন্য সব ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ বা July Charter-এ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, আইন কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ‘Executive Power’ বা নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) তৈরিতে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

রাষ্ট্রপতির বিদায় ও নির্বাচন: আইনি প্যাঁচ

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ তিনটি উপায়ে শূন্য হতে পারে: ১. পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে। ২. স্পিকারের কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিলে। ৩. শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে।

উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই জানিয়েছিলেন যে, নতুন নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে আগ্রহী। যদি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তবে আইনি জটিলতা ছাড়াই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

সংবিধানের ৫০ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

নির্বাচকমণ্ডলী: রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের (MPs) গোপন ব্যালটের ভোটে নির্বাচিত হন।

যোগ্যতা: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক, কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

নির্বাচনী কর্তা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মনোনয়ন: একজন প্রার্থীর জন্য অন্তত দুইজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন হয়—একজন প্রস্তাবক এবং অন্যজন সমর্থক। একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত ঘোষিত হন।

আগামীর সমীকরণ: কখন হতে পারে নির্বাচন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি এজেন্ডায় আসতে পারে। নতুন সরকার যেহেতু রাষ্ট্র সংস্কার ও ‘Constitutional Reform’-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাই বঙ্গভবনে একজন সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বকে দেখার সম্ভাবনা প্রবল।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান এবং নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রমই বলে দেবে, বাংলাদেশ কি নিকট ভবিষ্যতেই নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে কি না। আপাতত দেশবাসী ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিকে।

Tags: constitutional reform political update july sanad bangladesh parliament bangabhaban news bnp government bangladesh president election process md sahabuddin legal procedures