মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও এ তথ্য জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্রিস্টোফার ইয়াও জানান, ২০২০ সালের ২২ জুন পশ্চিম চীনের লোপ নর পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি ‘বিস্ফোরণ’ শনাক্ত করেছিল কাজাখস্তানের একটি রিমোট সিসমিক স্টেশন। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ২.৭৫। পারমাণবিক প্রকৌশলে ডক্টরেটধারী সাবেক এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক বলেন, অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনার পর আমি বলতে পারি, এটি একটি একক বিস্ফোরণ ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এটি খনি বিস্ফোরণ বা ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে না বলেও তিনি দাবি করেন।
ইয়াওয়ের মতে, চীন এই পরীক্ষার তথ্য গোপন করতে ‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে একটি বড় ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে আশপাশের পাথরে কম্পন কম সৃষ্টি হয় এবং বাইরে থেকে শনাক্ত করা কঠিন হয়।
তবে এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার একটি অজুহাত মাত্র। তিনি একে ‘রাজনৈতিক কারসাজি’ হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্তকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কমপ্রিহেনসিভ টেস্ট ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিটিবিটিও) জানিয়েছে, ইয়াওয়ের অভিযোগ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য তাদের কাছে নেই। সংস্থার নির্বাহী সচিব রবার্ট ফ্লয়েড জানান, সেদিন ১২ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি অতি ক্ষুদ্র কম্পন ধরা পড়েছিল, যা তাদের শনাক্তকরণ সীমার অনেক নিচে। ফলে শুধু এই তথ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই এখন পর্যন্ত তা অনুসমর্থন করেনি। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উভয় দেশ এই চুক্তি মেনে চলতে দায়বদ্ধ। চীন সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালে তাদের শেষ দাফতরিক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির স্থলাভিষিক্ত নতুন একটি চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।