• আন্তর্জাতিক
  • আল-আকসা ও গাজা আগ্রাসনে ইসরায়েলের সমর্থক! বিতর্কিত মার্কিন জেনারেলকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিল সৌদি আরব

আল-আকসা ও গাজা আগ্রাসনে ইসরায়েলের সমর্থক! বিতর্কিত মার্কিন জেনারেলকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
আল-আকসা ও গাজা আগ্রাসনে ইসরায়েলের সমর্থক! বিতর্কিত মার্কিন জেনারেলকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিল সৌদি আরব

সাবেক সেন্টকম কমান্ডার মাইকেল কুরিল্লার হাতে ‘বাদশাহ আব্দুল আজিজ পদক’ তুলে দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী; ফিলিস্তিন ইস্যুতে রিয়াদের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।

ফিলিস্তিনের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব এবং গাজায় চলমান অমানবিক নিধনযজ্ঞে তেল আবিবকে প্রকাশ্য সমর্থন জোগানো এক বিতর্কিত মার্কিন জেনারেলকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করল সৌদি আরব। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সাবেক কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লাকে এই পদক তুলে দিয়েছেন সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান। ফিলিস্তিন ইস্যুতে যখন মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখন এমন একজন ব্যক্তিত্বকে রিয়াদের পক্ষ থেকে ‘বাদশাহ আব্দুল আজিজ মেডেল’ দেওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক।

রাজকীয় ফরমানে সর্বোচ্চ সম্মাননা

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জমকালো অনুষ্ঠানে জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার হাতে এই বিশেষ মেডেল তুলে দেওয়া হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (MBS) বিশেষ নির্দেশনায় এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রশাসনিক কাঠামোতে ‘বাদশাহ আব্দুল আজিজ সম্মাননা’ বা ‘King Abdulaziz Medal’ কেবল মিত্র রাষ্ট্রপ্রধান বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কুরিল্লার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেওয়া হয়েছে।

কেন এই পুরস্কার ঘিরে সমালোচনার ঝড়?

জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার প্রোফাইল এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। ২০২২ সালে সেন্টকম (CENTCOM)-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা পরিচালিত হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গাটি হলো ফিলিস্তিন ইস্যু। অভিযোগ রয়েছে, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় কুরিল্লা কেবল নীরব দর্শক ছিলেন না, বরং ইসরায়েলি বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ‘Intelligence’ বা গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করেছেন। গাজায় যখন দুর্ভিক্ষের বিভীষিকা নেমে এসেছে, তখন মার্কিন কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, গাজায় যাই ঘটুক না কেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘Hamas’ নির্মূল করা। এই অমানবিক ও একপাক্ষিক অবস্থান তাকে মুসলিম বিশ্বের বড় একটি অংশের কাছে বিরাগভাজন করে তুলেছে।

বিতর্কিত ‘টাইম বোমা’ ও শরণার্থী শিবির ইস্যু

জেনারেল কুরিল্লার বিরুদ্ধে ইসলামভীতির অভিযোগও বেশ পুরনো। সিরিয়ার আল-হোল শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় সেখানে বসবাসরত মুসলিম শিশুদের ‘ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তিনি। তিনি ওই শিবিরকে একটি ‘Time Bomb’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে, এখান থেকে নতুন করে ‘ISIS’ যোদ্ধা তৈরি হবে। অসহায় শরণার্থীদের প্রতি তার এমন বিদ্বেষমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছেও সমালোচিত হয়েছিল।

ভূ-রাজনীতি ও সৌদির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের ফাইলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম আসার রেশ কাটতে না কাটতেই এই পদক প্রদানের ঘটনা রিয়াদের ভাবমূর্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে গাজা ইস্যুতে সহমর্মিতা দেখানো আর অন্যদিকে ইসরায়েলঘনিষ্ঠ মার্কিন জেনারেলকে পুরস্কৃত করা সৌদির ‘Diplomatic Dualism’ বা কূটনৈতিক দ্বিচারিতারই বহিঃপ্রকাশ।

তবে কুরিল্লাকে এমন সম্মান জানানোয় সৌদি আরবই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর পাকিস্তানও তাকে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ নামক সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত মৈত্রী ও ‘Strategic Alliance’ বজায় রাখতে গিয়ে মুসলিম দেশগুলো অনেক সময় জনমতের তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

Tags: middle east israel palestine saudi arabia us army michael kurilla king abdulaziz centcom commander mbs controversy al-aqsa mosque