পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরমে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া আলটিমেটামের কড়া জবাব দিল ইরান। কোনো প্রকার ‘Military Aggression’ বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো বা ‘Infrastructure’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
জাতিসংঘে ইরানের আর্তি ও প্রচ্ছন্ন হুমকি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী দূত প্রেরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং গতিবিধি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বাস্তবধর্মী সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। চিঠিতে ইরান পরিষ্কার জানিয়েছে, তেহরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ চালানো হলে তারা ‘Decisive’ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
ট্রাম্পের ১০ দিনের আলটিমেটাম ও ‘বোর্ড অব পিস’
একই দিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘Board of Peace’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি নতুন ‘Nuclear Deal’ বা পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে। ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ না চালালে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিঘ্নিত হতো। তার মতে, এবার হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে আরও এক ধাপ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, তবে তিনি একটি চুক্তির আশাও জিইয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
টার্গেট যখন মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদ
ইরান তাদের চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এখনও ‘Diplomatic Solution’ বা কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। তবে আত্মরক্ষার প্রশ্ন এলে তারা পিছু হটবে না। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে বিশাল সামরিক উপস্থিতি ও সম্পদ রয়েছে, তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে কোনো হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থ চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও ত্রিমুখী উত্তেজনা
এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য। ট্রাম্পের বার্তার পরপরই তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যদি আয়াতুল্লাহরা ভুল করে আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে আমরা এমন জবাব দেব যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।” মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ চাপের মুখে ইরান এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে।
আগামী ১০ দিন বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধের দাবানলে জ্বলে ওঠে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।