বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি আরও তিন বছর স্থগিত রাখার আবেদন করেছে সরকার। মূলত কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা, বৈশ্বিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রতিকূলতা মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
কেন এই বিলম্বের আবেদন? জাতিসংঘের সিডিপি-কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে, উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য যে সময় পাওয়া গিয়েছিল, তা মূলত কোভিড মহামারি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিশ্বজুড়ে কঠোর মুদ্রানীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন বাংলাদেশের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ চিঠিতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সীমাবদ্ধতাগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগের মন্দা ভাব, রাজস্ব আদায়ে নিম্নগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে দেশের কাঠামোগত সংস্কারের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এর ফলে এলডিসি পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত সমন্বয় এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
বাণিজ্যিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সরকার মনে করছে, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এখনই এলডিসি থেকে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা প্রাপ্তি এবং প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো কাটিয়ে উঠতে বাড়তি সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে বাংলাদেশ।
পরবর্তী প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের এই আবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি হতে পারে। সিডিপির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকাভুক্ত। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রি-বার্ষিক মূল্যায়নে উত্তরণের সব সূচকে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হলেও করোনা মহামারির কারণে এর আগে দুই বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার আরও তিন বছরের স্থগিতাদেশ চাইল সরকার।