অমর একুশের এই আয়োজনে সকালে প্রভাতফেরি ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রভাতফেরি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম শওকত আলী। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যে চেতনা আমাদের স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
হাসান হাফিজ আরও বলেন, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ এবং ’২৪ এর প্রতিটি সংগ্রামই বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার রক্ষার দীর্ঘ লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার প্রয়োগ ঘটিয়ে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিইউবিটি সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিইউবিটি ইনোভেশন হাব-এর উদ্যোগে 'ByteBuilders' নামের প্রযুক্তিকে মাতৃভাষায় রূপান্তরের একটি বিশেষ উপস্থাপনা প্রদর্শন করে।
যেখানে বাংলায় রোবোটিক্স চর্চার আদ্যপান্ত হাতেকলমে প্রদর্শন করেন রিসার্চ গ্রাজুয়েট স্কুলের গবেষক রাকিব হাসান, শাহাদাত হোসাইন সানি, আবদুল্লাহ আল সাদনান ও মাহবুবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।