• দেশজুড়ে
  • পানির অধিকারে হানা: কালিগঞ্জে সুপেয় পানির সংকটে হাড়দ্দহা গ্রামবাসীর আর্তনাদ

পানির অধিকারে হানা: কালিগঞ্জে সুপেয় পানির সংকটে হাড়দ্দহা গ্রামবাসীর আর্তনাদ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পানির অধিকারে হানা: কালিগঞ্জে সুপেয় পানির সংকটে হাড়দ্দহা গ্রামবাসীর আর্তনাদ

সরকারি পুকুর ও পিএসএফ ফিল্টার রক্ষার দাবিতে উত্তাল সাতক্ষীরা; লোনাপানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং অবৈধ দখলদারিত্ব রুখতে প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের এক অভিশাপ। সেই সংকটের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে একটি প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বের প্রচেষ্টা। কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামে সুপেয় পানির একমাত্র উৎস হিসেবে পরিচিত সরকারি পুকুর ও পিএসএফ ফিল্টার (PSF Filter) রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পিএসএফ ফিল্টারের পাশে দীঘিরপাড়ে আয়োজিত এই মানববন্ধনে লোনাপানির হাতছানি থেকে বাঁচার আকুতি জানান স্থানীয় নারী-পুরুষরা।

পানির উৎস ধ্বংসের পাঁয়তারা ও লোনাপানির আতঙ্ক

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাড়দ্দহা গ্রামের এই সরকারি পুকুরটি দীর্ঘকাল ধরে গ্রামবাসীর জন্য ‘সেফ ওয়াটার’ বা সুপেয় পানির একমাত্র বিশ্বস্ত উৎস। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মিত পিএসএফ ফিল্টারের মাধ্যমে এই পানিই পরিশোধন করে ব্যবহার করে আসছিল কয়েকশ পরিবার। কিন্তু সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল পাশের মৎস্যঘেরের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ঘেরের গভীরতা বাড়ালে লোনাপানি চুঁইয়ে পুকুরে প্রবেশ করবে, যা পুরো গ্রামের ‘Water Security’ বা পানির নিরাপত্তা চিরতরে ধ্বংস করে দেবে।

দখলদারিত্বের থাবায় বিপন্ন সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ

অভিযোগের তির উঠেছে বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা সাদিকুর বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীদের দাবি, তারা পুকুরপাড়ে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করতে গিয়ে সরকারি সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ফেলেছে। এমনকি ভারী ভেকু মেশিন (Excavator) দিয়ে পুকুরপাড়ের মূল্যবান গাছপালা কেটে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারি এই ‘Public Asset’ বা জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাধা দিতে গেলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ইতিমধ্যেই পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের ভাষ্য, উপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে এক কলস পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়, সেখানে একটি চলমান ‘Water Supply’ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা অবিলম্বে সাদিকুর বিশ্বাসসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুকুরের চারপাশের গাছপালা ও পিএসএফ ফিল্টারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি সম্পত্তি দখলকারী এবং সাধারণ মানুষের পানির অধিকারে হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরার অধিকাংশ নলকূপে এখন লবণাক্ত পানি উঠে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি পুকুরগুলোই সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা। যদি ব্যক্তিস্বার্থে এই উৎসগুলোও লোনাপানির গ্রাসে হারিয়ে যায়, তবে হাড়দ্দহা গ্রামটি অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে ‘Environmental Injustice’ বা পরিবেশগত অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সুপেয় পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই ‘Administrative Action’ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে কালিগঞ্জের মানুষ।

Tags: local news legal action safe water drinking water satkhira news kaliganj protest water crisis pond encroachment psf filter environmental safety