কাস্টমস ও রহস্যজনক ছাড়ের নেপথ্যে সম্প্রতি দেশের এক নামী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আড্ডার সময় নুসরাত ইমরোজ তিশা নিজেই মেহজাবীনের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। একটি গোপন সূত্র দাবি করছে, মেহজাবীন বিমানবন্দরে আটকের পর তিশা ও তার স্বামী মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কাছে সহযোগিতা চান। পরবর্তীতে তাদের প্রভাবেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মেহজাবীনকে কোনো আইনি জটিলতা বা মামলা ছাড়াই ছেড়ে দেয় বলে সূত্রটি জানায়।
কী ঘটেছিল সেদিন বিমানবন্দরে? প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্তের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার কথা থাকলেও, অদৃশ্য কোনো ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি সে সময় জব্দ রসিদ দিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেহজাবীনের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থান বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান মেহজাবীন চৌধুরী। যদিও মদের বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে পুরো বিষয়টিকে তার ক্যারিয়ারের বিরুদ্ধে এক ধরণের 'ষড়যন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মেহজাবীন তার পোস্টে লিখেন, "আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে। এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।"
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় মেহজাবীনের এই পোস্ট এবং তিশা-ফারুকীর নাম জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নেট দুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাস্টমসের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও কৌতূহল দুই-ই সৃষ্টি হয়েছে। তিশা বা ফারুকীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।