• দেশজুড়ে
  • ওসমানী মেডিকেলের বেডে তেলাপোকা-ছারপোকার রাজত্ব, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

ওসমানী মেডিকেলের বেডে তেলাপোকা-ছারপোকার রাজত্ব, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

সিলেটের প্রধান এই সরকারি হাসপাতালে তেলাপোকার উপদ্রবে খাবার ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংকটে রোগীরা; কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ওসমানী মেডিকেলের বেডে তেলাপোকা-ছারপোকার রাজত্ব, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবর্তে মিলছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিজ্ঞতা। হাসপাতালের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। রাতের বেলা বেডের ওপর দিয়ে পতঙ্গের অবাধ বিচরণে একদিকে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে নির্ঘুম রাত কাটছে অসুস্থ মানুষদের। খাবারের ওপর তেলাপোকার আনাগোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

সিলেটের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের বেডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের ভোগান্তি হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, বেড ও তার আশপাশের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। তেলাপোকাগুলো রাতের বেলায় আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং রোগীদের শরীরের ওপর দিয়ে চলাচল করে। এক রোগীর স্বজন সঞ্জয় কান্তি দাস অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সুস্থ হতে এসে উল্টো মানসিক অস্থিরতায় দিন কাটছে। তেলাপোকার কারণে সারারাত জেগে থাকতে হয় এবং কোনো খাবারই নিরাপদে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্ড ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংক্রমণের আশঙ্কা ও সচেতন মহলের উদ্বেগ হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের পতঙ্গের উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপোকা ও ছারপোকা রোগ ছড়ানোর অন্যতম বাহক। সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, সরকারি হাসপাতালের এমন নাজুক পরিবেশ রোগীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন জানান, হাসপাতালের টয়লেট থেকে শুরু করে বেড পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় নোংরা পরিবেশ বিরাজমান। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে রোগীরা এখানে সেবা নিতে এসে আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণ মানুষ সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tags: health risk bangladesh news sylhet mag osmani medical college hospital patient sufferings