বরিশাল নগরীর একজন প্রতিষ্ঠিত নার্সারি ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং মুক্তিপণের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার ঢাকার একটি এলাকা থেকে দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও অভিযান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মনোজ বিক্রম। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মাধব বিক্রমের ছেলে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবুগঞ্জের রহমতপুরে যে পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ব্যবসায়ী মিলন শেখকে ৫ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই বাড়িটি মনোজই ভাড়ার আড়ালে অপরাধের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুল গাছের বড় অর্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মিলন শেখকে মোবাইল ফোনে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি শৌচাগারে আটকে রেখে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা এর আগে অপহরণের দিনই মামলার তিন নম্বর আসামি সুমন সমদ্দারকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে পরিচিত তাপস রায় (৫০) এখনও পলাতক রয়েছেন। তাপস বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, পলাতক প্রধান আসামি তাপস রায়কে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী খালেদা বেগম বাদী হয়ে ইতোমধ্যে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।