রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (National Institute of Burn and Plastic Surgery) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
নিস্তব্ধ রাতে আগুনের তাণ্ডব স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রায়েরবাজারের ১৪৭ নম্বর ‘জাহানারা ভিলা’ নামক ৬ তলা ভবনের নিচতলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। রাত পৌনে ৪টার দিকে যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ গ্যাস লিকেজ (Gas Leakage) হয়ে ঘরে গ্যাস জমে ছিল, যা কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ বা আগুনের সংস্পর্শে আসায় বিস্ফোরিত হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিবেশীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
আহতদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন—শেখ নোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২), তাদের ৩ বছর বয়সী শিশুসন্তান রোহান এবং নোমানের শ্যালক অপু (২৩)। দগ্ধ শেখ নোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি সপরিবারে রায়েরবাজারের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান:
শেখ নোমান: শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ।
পিংকি আক্তার: শরীরের ৭৫ শতাংশ দগ্ধ।
অপু: শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ।
শিশু রোহান: শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ।
চিকিৎসকদের মতে, দগ্ধ প্রত্যেকেরই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক (Critical Condition)। বর্তমানে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী মো. মামুন জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নিচতলার ফ্ল্যাটটির দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) সংশ্লিষ্ট থানা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ নাকি সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শীতের শেষে বা ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস (Fire Service) বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, রাতে ঘুমানোর আগে গ্যাসের চাবি বন্ধ রাখা এবং সকালে চুলা জ্বালানোর আগে ঘরের জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। রায়েরবাজারের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও নগরের আবাসন নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার অভাবকে সামনে নিয়ে এলো।