বাঙালির মনন ও মেধার দুই মহতী উৎসবের সাক্ষী হতে যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। একই দিনে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান এবং অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সকালে সম্মাননা, বিকেলে বইমেলা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মনোনীত গুণিজনদের হাতে ‘একুশে পদক’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় তিনি উপস্থিত হবেন বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশকদের জন্য বিশেষ উপহার: মওকুফ হয়েছে স্টল ভাড়া এবারের বইমেলার একটি বিশেষ দিক হলো অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ছাড়। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রকাশনা শিল্পের বিকাশে সরকার এবার মেলায় স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে প্রকাশকরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা বইয়ের গুণগত মান ও প্রসারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একুশে পদক ২০২৬: মেধার শিখরে যারা চলতি বছরের একুশে পদকের জন্য ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংগীত দল ‘ওয়ারফেজ’-কে মনোনীত করা হয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তারা এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাচ্ছেন।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন:
চলচ্চিত্র: কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা।
সংগীত: আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর)।
সংগীত দল (ব্যান্ড): ওয়ারফেজ।
সাংবাদিকতা: প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান।
স্থাপত্য: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম।
চারুকলা: অধ্যাপক আবদুস সাত্তার।
নাট্যকলা: ইসলাম উদ্দিন পালাকার।
শিক্ষা: অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার।
ভাস্কর্য: তেজস হালদার যশ।
নৃত্যকলা: অর্থী আহমেদ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পদক বিজয়ী প্রত্যেককে নগদ চার লাখ টাকা, ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক (Gold Medal), একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে। তবে এ বছর ‘সাহিত্য’ বিভাগে কাউকে মনোনীত না করায় বুদ্ধিজীবী মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই জোড়া আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।