গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার বাস্তবকে সামনে আনলেন পাকিস্তানি মডেল ইকরা নাসির সিদ্দিকী। প্রাক্তন স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের (Physical and Mental Abuse) অভিযোগ তুলে আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। কেবল মৌখিক অভিযোগই নয়, নিজের ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের প্রমাণ হিসেবে শরীরে থাকা একাধিক আঘাতের চিহ্নের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এই মডেল।
মামলা ও গুরুতর অভিযোগ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি পাকিস্তান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইকরা নাসির সিদ্দিকী তার প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দণ্ডবিধির (Pakistan Penal Code) ৩৫৪ এবং ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত এফআইআর (FIR) সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তার প্রাক্তন স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের দিকে। এজাহারে ইকরা উল্লেখ করেছেন, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও (Death Threat) দেওয়া হয়েছিল।
‘নীরবতা অপরাধীকে সুরক্ষা দেয়’: ইকরার সাহসী বার্তা সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম (Instagram) হ্যান্ডেলে শরীরে নীল হয়ে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন এবং মামলার নথিপত্র শেয়ার করেন ইকরা। সেখানে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বার্তা দেন। ইকরা লেখেন, “নীরবতা শুধু অপরাধীকে সুরক্ষা দেয়, ভুক্তভোগীকে নয়।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, এই শারীরিক গ্লানি বা লাঞ্ছনার লজ্জা তার নয়, বরং যারা এই অপরাধ করেছে লজ্জা তাদের হওয়া উচিত। নিজের জীবনের কঠিনতম সময়েও তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ন্যায়বিচারের (Justice) আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নির্যাতিত সকল নারীর নিরাপত্তা ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য ও পোস্ট অপসারণ ইকরার এই সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই ‘গার্হস্থ্য সহিংসতা’র (Domestic Violence) বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তবে চাঞ্চল্যকর এই পোস্টটি করার কিছু সময় পরই রহস্যজনকভাবে তা সরিয়ে নেন ইকরা। কেন তিনি পোস্টটি ডিলিট করলেন কিংবা কোনো আপস-মীমাংসার চাপ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি (Official Statement) পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানি বিনোদন জগতে মডেল ও অভিনেত্রীদের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে ইকরার মতো জনসমক্ষে এসে প্রতিবাদের ভাষা বেছে নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা মনে করছেন, এমন সাহসী পদক্ষেপ সমাজে নারীদের ওপর হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।