বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও রদবদলের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ৩ জন প্রভাবশালী সচিবকে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ কার্যকর করা হয়। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তাদের বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক ভাষায় কার্যত ওএসডি (OSD) হিসেবে গণ্য হয়।
প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রে বড় পরিবর্তন
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে এই রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি এসেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নাকে তার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার অপসারণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।
দায়িত্ব হারালেন যারা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ছাড়াও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারা হলেন:
১. রেহানা পারভীন: সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (Secondary and Higher Education Division)। ২. মো. কামাল উদ্দিন: সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এই কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডে (Chain of Command) নতুন মুখ আসার পথ প্রশস্ত হলো। শিক্ষা ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তরের শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনস্বার্থে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'জনস্বার্থে' জারিকৃত এই আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং Policy-making পর্যায়ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনাই এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য। আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বিগত কয়েক দিন ধরে সরকারের বিভিন্ন স্তরে যে বড় মাপের রদবদল শুরু হয়েছে, আজকের এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। এর আগে ৯ জন চুক্তিভিত্তিক শীর্ষ কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করার রেশ কাটতে না কাটতেই ৩ জন নিয়মিত সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করছে। সাধারণত প্রশাসনিক সংস্কার বা শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এমন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত নতুন এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এর ফলে মাঠ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।