এ ঘটনার পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো অঙ্গরাজ্যসহ একাধিক এলাকায় আগুন, সড়ক অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার জালিস্কোর তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হন এল মেনচো। পরে তাকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল বিমানে। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়। এল মেনচো এত বেশি আগ্রাসী ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সহায়তা ছিল। এতে এল মেনচোর জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) চার সদস্য নিহত হন। আরও দুজনকে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের সময় মৃত্যু হয়।
দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চারসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র। আহত হয়েছেন তিন সেনাসদস্য। খবরে আরও বলা হয়, এল মেনচো ও তার দলকে পাকড়াও করতে নিরাপত্তা বাহিনী যে অভিযান চালিয়েছিল, সেটির পর থেকেই জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাস অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে।
জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারা রোববার রাত থেকে জনশূন্য হয়ে পড়ে। গুয়াদালাহারায় আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে গণপরিবহন স্থগিত করেছেন।
পর্যটন নগরী পুয়ের্তো ভালার্তায়ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সোমবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এল মেনচোকে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, দেশের সব অঙ্গরাজ্যের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রয়েছে এবং অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।