চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এক ধরনের অস্বস্তি ও বিভাজন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অনেক শিল্পীই বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন। এই প্রেক্ষাপটে অভিনেত্রী ববিতা শিল্পীদের পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
রাজনীতি ও শিল্পীর মর্যাদা ববিতা মনে করেন, দর্শকদের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি বলেন, "শিল্পীর কণ্ঠস্বর হওয়া উচিত সবার জন্য, কোনো বিশেষ দলের জন্য নয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু একজন শিল্পীর মর্যাদা চিরস্থায়ী যদি তিনি দলনিরপেক্ষ থাকতে পারেন।" শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয়ে টেনে না আনার জন্য তিনি নতুন সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান।
সিনেমা হলের সংকট ও উন্নয়ন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অনেক জেলায় এখন একটিও প্রেক্ষাগৃহ নেই। মফস্বল শহরগুলোতে সিনেমা দেখার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে আধুনিক ও মানসম্মত সিনেমা হল নির্মাণের জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন তিনি। ববিতার মতে, ভালো সিনেমা তৈরির পাশাপাশি তা প্রদর্শনের সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুদান ও পুরস্কারে স্বচ্ছতার দাবি সরকারি অনুদান এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে প্রচলিত অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ববিতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং মেধা ও গল্পের গুণমান বিচার করে অনুদান দেওয়া উচিত। জাতীয় পুরস্কারের ক্ষেত্রে নম্বর জালিয়াতি বা পছন্দের মানুষকে পুরস্কার দেওয়ার অপসংস্কৃতি বন্ধ করে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।
একীভূত সংস্কৃতির প্রত্যাশা পরিশেষে ববিতা আশা প্রকাশ করেন যে, শিল্প ও সংস্কৃতি যেন বিভেদের কারণ না হয়ে ঐক্যের শক্তিতে পরিণত হয়। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে শিল্পীরা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ পান, সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রকে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই কালজয়ী অভিনেত্রী।