দীর্ঘ ২৪ মৌসুম ধরে সম্প্রচারিত হওয়া এই রিয়েলিটি শো-টি তরুণীদের কাছে স্বপ্নের মতো হলেও, এর অন্দরমহল ছিল বিষাক্ত। নেটফ্লিক্সের নতুন এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কীভাবে মডেলদের স্বপ্নকে পুঁজি করে মুনাফা ও রেটিংয়ের খেলা চলেছে।
যৌন নিপীড়ন ও শ্যান্ডি সুলিভানের অভিযোগ তথ্যচিত্রের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো দ্বিতীয় মৌসুমের প্রতিযোগী শ্যান্ডি সুলিভানের অভিজ্ঞতা। মিলানে শুটিং চলাকালে মদ্যপ অবস্থায় তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন বলে দাবি করেছেন। অথচ সেই ঘটনাটিকে প্রযোজনা দল ‘প্রেমিককে প্রতারণা’ হিসেবে রং চড়িয়ে শো-তে প্রচার করে। শ্যান্ডি জানান, তিনি ‘ব্ল্যাকআউট’ অবস্থায় ছিলেন এবং সেই স্পর্শকাতর ভিডিও পরে টাইরা ব্যাঙ্কসের টকশোতেও বারবার দেখানো হয়।
বর্ণবাদ ও কাস্টিং নিয়ে লুকোচুরি শোর শুরু থেকেই বর্ণবাদের অভিযোগ ছিল স্পষ্ট। প্রযোজক কেন মর্কের জানান, নেটওয়ার্ক প্রধানরা লাতিন বা কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দিতেন। প্রথম মৌসুমের প্রতিযোগী এবনি হেইথকে ক্যামেরার সামনে ‘আগ্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল এবং মেকওভারের নামে তার মাথায় টাক তৈরি করা হয়েছিল, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে।
বডি শেমিং ও মানসিক চাপ মডেলদের ওজন নিয়ে বিচারকদের কড়া মন্তব্য ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। চতুর্থ মৌসুমের প্রতিযোগী কিনা হিলকে ‘হাতি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। জিসেল স্যামসন নামের আরেক প্রতিযোগী জানান, শরীর নিয়ে সেই অপমানজনক মন্তব্যগুলো আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। এমনকি ষষ্ঠ মৌসুমের বিজয়ী ড্যানিয়েল ইভান্সকে তার দাঁতের ফাঁক বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
বিতর্কিত ফটোশুট ও সৃজনশীলতার সংকট ‘ANTM’-এর ফটোশুটগুলো ছিল প্রায়ই কাণ্ডজ্ঞানহীন। প্রতিযোগীদের দিয়ে কাঁচা মাংস পরিয়ে ছবি তোলা থেকে শুরু করে ‘ব্ল্যাকফেস’ বা অপরাধস্থলের মৃতদেহ হিসেবে পোজ দেওয়ানো হতো। শোর সৃজনশীল পরিচালক জে ম্যানুয়েল স্বীকার করেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই তারা অস্বস্তিবোধ করলেও টাইরা ব্যাঙ্কসের জেদের কাছে হার মানতে হতো।
বিচারের আড়ালে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ২০১২ সালে রেটিং বাড়াতে শো থেকে বরখাস্ত করা হয় জনপ্রিয় বিচারক জে ম্যানুয়েল, জে অ্যালেকজান্ডার এবং নাইজেল বার্কারকে। তথ্যচিত্রের শেষে দেখা যায়, ২০২২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে বন্দি হওয়া ‘মিস জে’-র করুণ দশা। যিনি একসময় মডেলদের হাঁটতে শেখাতেন, তিনি আজ নিজেই হাঁটতে পারছেন না। টাইরা ব্যাঙ্কস তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও একবারের জন্যও দেখা করতে আসেননি।