• জাতীয়
  • মূল্যস্ফীতির চাপে স্বস্তি দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড': দুপুরে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মূল্যস্ফীতির চাপে স্বস্তি দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড': দুপুরে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মূল্যস্ফীতির চাপে স্বস্তি দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড': দুপুরে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে সুরক্ষা দিতে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প; ডিজিটাল ডেটাবেস ও এনআইডি-র মাধ্যমে সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছাবে অর্থ সহায়তা।

রাজধানীর সচিবালয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তিনি সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে অফিস করছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দুপুর ১২টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড: নিম্নবিত্তের জন্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা কবচ বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বিএনপি সরকারের এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের দরিদ্র এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় এনে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই উদ্যোগটি সরকারের একটি বৃহৎ 'Social Safety Net' বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সরাসরি নগদ সহায়তা এই প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করা। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রদানকৃত নগদ সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ডিজিটাল ডেটাবেস ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পটিকে ত্রুটিমুক্ত ও নিখুঁত করতে একটি আধুনিক ‘Digital Database’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রণয়ন করা হবে, যাতে কোনোভাবেই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বা অনিয়ম না ঘটে। প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় একটি ‘Pilot Project’ হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুপুরের বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন যারা দুপুর ১২টার এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা। এছাড়া কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে সভায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) চেয়ারম্যান। সভায় ফ্যামিলি কার্ডের চূড়ান্ত নীতিমালা ও পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচি সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের বৈঠকের আগে সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ‘নিউমুরিং টার্মিনাল’ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেন। সেখানে বন্দর উন্নয়ন ও দেশের ‘Logistic Sector’ শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মাঠ পর্যায়ের তদারকির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে দেশের কয়েক লাখ নিম্নবিত্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করছে সরকার।

Tags: tarique rahman family card inflation relief digital database