পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. আ. রাজ্জাক হাওলাদার (৫৫) নামে এক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেলের চেইন দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিন দিন পার হলেও পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ বা আইনি পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গাজীপুরা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সোনাপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী আ. রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার মো. ফিরোজ ডাক্তার ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজ্জাক গাজীপুরা বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ ডাক্তার মোটরসাইকেলের চেইন দিয়ে রাজ্জাকের মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তার মুখ ফেটে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজ্জাক মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর মো. কালাম ডাক্তার, মো. কাসেম, মো. বাইজিদ, মো. জুয়েল ও মো. মাহাতাব তাকে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত রাজ্জাককে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রাজ্জাক একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ। অতীতেও তিনি বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নতুন সময়েও তার ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. জেসমিন বেগম বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে তার অভিযোগ, হামলার পর থেকে তারা থানায় ঘুরলেও পুলিশ মামলা নিতে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে। জেসমিন বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে প্রকাশ্যে চেইন দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত বিচার চাই।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অভিযোগ নিয়ে কেউ এসেছিলেন, তবে বিষয়টি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কেন মামলা নিতে দেরি হচ্ছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে যুবদল নেতাকে চেইন দিয়ে পিটিয়ে জখমঃ মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু: