• জাতীয়
  • চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে চুরমার এক পরিবার: মৃত্যুর মিছিলে এবার সাখাওয়াত হোসেন, প্রাণহানি বেড়ে ৫

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে চুরমার এক পরিবার: মৃত্যুর মিছিলে এবার সাখাওয়াত হোসেন, প্রাণহানি বেড়ে ৫

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে চুরমার এক পরিবার: মৃত্যুর মিছিলে এবার সাখাওয়াত হোসেন, প্রাণহানি বেড়ে ৫

হালিশহরে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শতভাগ দগ্ধ সাখাওয়াতের প্রয়াণ, এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পরিবারের চার সদস্য।

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানের পর এবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পরিবারের অভিভাবক সাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (National Burn and Plastic Surgery Institute) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।

নিভে গেল জীবনপ্রদীপ: ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিলেন সাখাওয়াত

বিস্ফোরণের পর থেকেই সাখাওয়াত হোসেনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল (100% Burn)। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এত বেশি দগ্ধ রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকে। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এক এক করে নিভে যাচ্ছে একটি সাজানো পরিবারের সব প্রদীপ। সাখাওয়াতের আগে এই একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, ছেলে শাওন, ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি পরিবারের ৫ সদস্যের এমন বিদায় স্থানীয় এলাকায় শোকাতুর পরিবেশ তৈরি করেছে।

এখনো শঙ্কামুক্ত নন আহত ৪ জন

সাখাওয়াতের মৃত্যুর পর এখন হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) ও এইচডিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দগ্ধের পরিমাণ এবং ইন্টারনাল ইনজুরি (Internal Injury) বিবেচনায় তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক (Critical Condition)।

গ্যাস লিকেজ থেকে যেভাবে ধ্বংসস্তূপ হলো সাজানো ঘর

দুর্ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বন্ধ ঘরে জমে থাকা গ্যাস লিকেজ (Gas Leakage) থেকেই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্ল্যাটে, যার কবলে পড়েন একই পরিবারের নয়জন সদস্য। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার প্রশ্ন

বারবার গ্যাস বিস্ফোরণের এমন মর্মান্তিক ঘটনা নগর জীবনে নিরাপত্তার অভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইন লিকেজ শনাক্তে অবহেলা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন (Ventilation) ব্যবস্থা না থাকাই এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। এই ঘটনায় তছনছ হয়ে যাওয়া পরিবারটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানোর হাহাকার। ৫ জন সদস্যকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এই পরিবারের বাকি সদস্যদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Tags: death toll medical news family tragedy critical condition fire safety gas explosion halishahar fire chittagong explosion gas leakage burn institute