• বিনোদন
  • মেহজাবীনের আইনি হুঁশিয়ারি: বিমানবন্দরে ‘মাদককাণ্ডের’ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি

মেহজাবীনের আইনি হুঁশিয়ারি: বিমানবন্দরে ‘মাদককাণ্ডের’ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
মেহজাবীনের আইনি হুঁশিয়ারি: বিমানবন্দরে ‘মাদককাণ্ডের’ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদে কঠোর অবস্থানে ছোটপর্দার শীর্ষ এই অভিনেত্রী; ভিত্তিহীন সংবাদের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা।

দেশের বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ মেহজাবীন চৌধুরীকে নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ‘মাদককাণ্ডের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শোবিজ অঙ্গন। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এবার আইনি পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিজের সম্মান রক্ষার্থে এবং অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন (Legal Action) নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী।

বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সরব মেহজাবীন

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মেহজাবীন চৌধুরী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে ঘিরে বিমানবন্দরে মাদক সংক্রান্ত যে ঘটনার কথা প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। মেহজাবীন জানান, বিমানবন্দরে কোনো আইনি বা নিরাপত্তা সংস্থা তাকে কখনোই থামায়নি এবং তার হ্যান্ডব্যাগ বা অন্য কোনো লাগেজ তল্লাশি করে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে এ সংক্রান্ত কোনো জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।

তিনি এই অপপ্রচারকে তার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা ডিজিটাল সেফটি ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

আগস্টের সেই পুরনো ঘটনার নেপথ্যে কী?

গুজবটি মূলত দানা বাঁধে গত বছরের আগস্ট মাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকা ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেহজাবীন চৌধুরীর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময় তার সঙ্গে নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। বেশ কিছু বেনামী পোর্টাল ও প্রোফাইল থেকে দাবি করা হয় যে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছিল।

তবে মেহজাবীন এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকতো, তবে তার কোনো অডিও, ভিডিও কিংবা নির্ভরযোগ্য এভিডেন্স (Evidence) বা প্রমাণ কেন আজ পর্যন্ত কেউ উপস্থাপন করতে পারল না? কোনো ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করাকে সাংবাদিকতার নৈতিকতা পরিপন্থী বলে মনে করছেন তিনি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘ক্লিকবেইট’ সংস্কৃতির শিকার

মেহজাবীনের অভিযোগ, বর্তমানে ডিজিটাল মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে রিচ (Reach) বাড়ানো এবং ভিউ পাওয়ার নেশায় অনেক অসাধু চক্র ‘ক্লিকবেইট’ (Clickbait) শিরোনাম ব্যবহার করছে। তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এটি কেবল মানহানি নয়, বরং একজন শিল্পীর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মানকে ভুলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের সাইবার বুলিং এবং ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন (Character Assassination) রুখতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার আহ্বান

মেহজাবীন চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র ছাড়া বা কেবল ভিউ পাওয়ার আশায় কোনো পাবলিক ফিগার সম্পর্কে এমন সংবেদনশীল খবর প্রকাশ যে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে, তা মেহজাবীনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট। অভিনেত্রী আশা প্রকাশ করেন, সত্যের জয় হবে এবং যারা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

Tags: social media entertainment news fake news bangladesh airport mehazabien chowdhury clickbait legal action cyber bullying airport incident legal step