• রাজনীতি
  • সংসদে প্রথম কাজ রাষ্ট্রপতির অভিশংসন: ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ অভিযোগে উত্তাল বিরোধী শিবিরের হুঁশিয়ারি

সংসদে প্রথম কাজ রাষ্ট্রপতির অভিশংসন: ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ অভিযোগে উত্তাল বিরোধী শিবিরের হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
সংসদে প্রথম কাজ রাষ্ট্রপতির অভিশংসন: ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ অভিযোগে উত্তাল বিরোধী শিবিরের হুঁশিয়ারি

জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের; আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘গোপন আঁতাত’ নিয়ে সরকারকে সতর্কবার্তা।

দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রথম সংসদ অধিবেশনের প্রধান এজেন্ডা কী হবে, তা নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, আসন্ন সংসদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ইমপিচমেন্ট’ (Impeachment) বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারিত করা।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে অভিশংসনের ডাক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “প্রথম সংসদ অধিবেশনে আমাদের প্রাথমিক কাজ হবে ফ্যাসিবাদের দোসর এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের পদক্ষেপ নেওয়া। এখানে সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল—কারো মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। কারণ ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনে আমাদের মধ্যে একটি ‘ন্যাশনাল ইউনিটি’ (National Unity) বা জাতীয় ঐক্য রয়েছে। সেই ঐক্যের জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। কিন্তু তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব এবং ‘কনস্টিটিউশনাল ভ্যাকিউম’ (Constitutional Vacuum) বা সাংবিধানিক শূন্যতার অজুহাতে তাঁকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন সরকার ও নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে; ফলে রাষ্ট্রপতির বিদায়ে আর কোনো বাধা নেই।”

গণহত্যা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি অভিযোগ করেন, যখন রাজপথে নির্মম হত্যাকাণ্ড চলছিল, তখন রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়েও মো. সাহাবুদ্দিন নীরব ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এনসিপি প্রধানের ভাষায়, “আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম, তখন তাঁর নিষ্ক্রিয়তাই পরোক্ষভাবে গণহত্যাকে ত্বরান্বিত করেছে। ফলে তিনি এই ‘জেনোসাইড’ (Genocide)-এ সমানভাবে অভিযুক্ত। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরণের আর্থিক অনৈতিকতার অভিযোগও রয়েছে।”

রাষ্ট্রপতির পদের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য রক্ষায় মো. সাহাবুদ্দিন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে নাহিদ বলেন, “একজন রাষ্ট্রপতির যে ব্যক্তিত্ব ও শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন, তা তাঁর নেই। বরং তিনি নানা অপরাধে জর্জরিত। এখন সময় এসেছে অভিশংসন শেষে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করা।”

আওয়ামী লীগ ও ‘গোপন চুক্তির’ শঙ্কা সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা রাখা এবং দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভের বিষয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের অফিস খোলা থাকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের এবং সরকারও এই সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে পর্দার আড়ালে নতুন সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো ‘সিক্রেট ডিল’ (Secret Deal) বা গোপন চুক্তি হয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।”

সরকারকে হুঁশিয়ার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দেশে ‘রুল অব ল’ (Rule of Law) বা আইনের শাসন চাই। যদি আইনের শাসনে কোনো ব্যত্যয় ঘটে কিংবা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণের পক্ষ থেকে আবারও প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হবে। সরকার কি আইনের পথে হাঁটবে, নাকি একটি ‘সিভিল ওয়ার’ (Civil War) বা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করবে—তার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।”

শহীদ জিয়ার অবমাননা ও সাক্ষাৎকার বিতর্ক নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া তাঁর সাম্প্রতিক কিছু সাক্ষাৎকার সাংবিধানিক শপথের লঙ্ঘন হিসেবেও দেখছে বিরোধী শিবির। ফলে নৈতিক ও আইনি—উভয় দিক থেকেই তিনি আর রাষ্ট্রপতির আসনে থাকার যোগ্য নন বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম।