জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী জোরপূর্বক নিজেদের মতাদর্শ ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (North South University) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের ডাক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “অজস্র প্রাণের আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অর্জন করেছি, তা কোনোভাবেই বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে আমাদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যখনই কোনো গোষ্ঠী নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে জনমতের তোয়াক্কা না করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে।
সুশাসন ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদ (Hegemony) নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় থাকলে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের গ্রাস করতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, দেশে যদি সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবেই বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।” তিনি তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থেকে একটি সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য (MP) অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম দিন থেকেই যে দূরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা অভূতপূর্ব। তাঁর এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভাটি এক প্রাণবন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডায় পরিণত হয়। বক্তারা মহান স্বাধীনতার মূল চেতনা অর্থাৎ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বর্তমান প্রজন্মের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।