ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সমীকরণে রাজপথের পোড়খাওয়া ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের পথে হাঁটছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি দলের পাশাপাশি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এক্ষেত্রে দলটির হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা ও দুর্দিনে মাঠে থাকা নেত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। এই দৌড়ে ঝিনাইদহ জেলা থেকে শক্তিশালী Candidate হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী মৌসুমী নাছরিন।
ছাত্রদল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি: এক বর্ণাঢ্য অভিযাত্রা
মৌসুমী নাছরিনের রাজনীতির হাতেখড়ি নব্বইয়ের দশকের উত্তাল সময়ে। ১৯৯৫ সালে ঝিনাইদহ কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পতাকাতলে যোগ দেন তিনি। সেখানে কলেজ কমিটির ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মেধা ও সাহসের পরিচয় দেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমিয়েও সক্রিয় ছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হল ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।
২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ‘Campus Politics’-এ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তার এই ‘Political Career’ তাকে দলের উচ্চপর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।
দুর্দিনের রাজপথ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উত্থান
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী সময় ছিল অত্যন্ত সংকটকাল। সেই সেনাসমর্থিত সরকারের সময় দলের দুর্দিনে রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মৌসুমী নাছরিন। পরবর্তীতে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও আমিরুজ্জামান আলীম কমিটিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসান কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এছাড়া ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব অনস্বীকার্য।
ঝিনাইদহের তৃণমূল ও নারীর ক্ষমতায়ন
মৌসুমী নাছরিনকে নিয়ে ঝিনাইদহে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে সরাসরি রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নারী অধিকার রক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও নিজ এলাকার মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা সবসময়ই সরব ছিল। ঝিনাইদহের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়, যাতে এলাকার উন্নয়ন ও ‘Women Empowerment’ বা নারীর ক্ষমতায়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশা ও দলীয় সমীকরণ
নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মৌসুমী নাছরিন বলেন, “ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সবসময় সামনের সারিতে থেকেছি। দলের ক্রান্তিকাল এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে কখনও মাঠ ছাড়িনি। আশা করছি, দল আমার ত্যাগ ও পরিশ্রম মূল্যায়ন করে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে। নির্বাচিত হলে ঝিনাইদহের উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করব।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাত অনুযায়ী বিএনপি এবার ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তপশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণে আগামী ৬ এপ্রিল সোমবার সভায় বসছে ইসি। ওই দিনই বিস্তারিত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে।