জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক বিস্ফোরক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনে বিধি-৬২’র আওতায় আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জামায়াতের আদর্শিক বিচ্যুতি এবং বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভোটের জন্য ‘শরিয়া আইন’ বিসর্জন: জামায়াতকে তোপ
ব্যারিস্টার পার্থ তার স্বভাবসুলভ তূখোড় বাচনভঙ্গিতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করলেন, এক সময় শরিয়া আইনের কথা বলে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করলেন, আর এখন ভোটের প্রয়োজনে বলছেন আপনারা শরিয়া আইন চান না। এটি কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি কৌশল মাত্র।”
তিনি জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা ভোটের জন্য আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন। ‘You have done it for votes.’ যদি আপনাদের লক্ষ্যই বদলে যায়, তবে এত বছর ধরে কেন ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করলেন? আপনাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান জাতির সামনে এখন স্পষ্ট।”
সংবিধান সংস্কার না কি বিপ্লব? পদ্ধতির ভুল ধরিয়ে দিলেন পার্থ
সংবিধান সংস্কারের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পার্থ। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি লক্ষ্য হয় বর্তমান সংবিধানকে পুরোপুরি বাতিল করা, তবে কেন প্রচলিত ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে?
পার্থর মতে, “আমাদের মূল সমস্যা প্রক্রিয়ায়। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে কিছু বানাতে চাইতেন, তবে কেন ‘Revolutionary Government’ (বিপ্লবী সরকার) গঠন করলেন না? একটি ‘Transitional Revolutionary Government’ বা অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকার গঠন করলে আপনাদের সামনে সংবিধান নতুন করে লেখার সুযোগ থাকত। কিন্তু পুরনো সংবিধানের শপথ নিয়ে, সেই সংবিধানের ভেতরে থেকেই তাকে বাতিল করতে চাওয়া আইনগতভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি আসলে হয় না।”
‘সংবিধান কোনো পরাজয়ের দলিল নয়’
সংবিধান রক্ষার পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে এই প্রখ্যাত আইনজীবী বলেন, সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দিতে হবে? যুগের প্রয়োজনে এবং জাতির স্বার্থে সংবিধানে অবশ্যই বড় ধরণের ‘Amendment’ বা সংশোধন আনা যেতে পারে, কিন্তু একে চিরতরে বাতিল করার প্রয়োজনীয়তা নেই।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি মনে করছেন এটি কেবল ১৯৭১ সালের পরাজয়ের দলিল? তাই কি একে ছিঁড়ে ফেলতে চান? মনে রাখবেন, সংবিধানের ওপর আমাদের ‘Respect’ থাকতে হবে। এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। একে সংস্কার করুন, আধুনিকায়ন করুন, কিন্তু সমূলে বিনাশ করার চিন্তাটি আত্মঘাতী হতে পারে।”
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর এই বক্তব্য সংসদের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর রাজনৈতিক রূপান্তর এবং সংবিধান সংস্কারের আইনি কাঠামো নিয়ে তার যুক্তিগুলো ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দল ও সরকারের পক্ষ থেকে এই ‘Constitutional Reform’ ইস্যুতে পার্থর উত্থাপিত পয়েন্টগুলোর কী জবাব আসে।