ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে পাঠদান নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও নিয়মিত সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার দাবি জানিয়েছে।
যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ও নিন্দা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দাবি করেন, সরকার একদিকে বলছে জ্বালানি সংকট নেই, অন্যদিকে সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার ওপর আঘাত হানছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তারা মন্তব্য করেন।
জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রের অন্য সব খাত এবং বিলাসিতা সচল রেখে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। জ্বালানি বা যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অনলাইন ক্লাসের কুফল ও ঝুঁকি শিবির নেতারা অনলাইন ক্লাসের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য এবং ডিভাইসের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী পাঠদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি বিবৃতিতে সরকারকে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারি দেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। তারা দ্রুত এই ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সব শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।