• খেলা
  • আজ্জুরিদের নীল বিষাদ: টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি, ‘অনুভূতিহীন’ গাত্তুসোর কান্নায় বিদায়!

আজ্জুরিদের নীল বিষাদ: টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি, ‘অনুভূতিহীন’ গাত্তুসোর কান্নায় বিদায়!

খেলা ১ মিনিট পড়া
আজ্জুরিদের নীল বিষাদ: টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি, ‘অনুভূতিহীন’ গাত্তুসোর কান্নায় বিদায়!

বসনিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের; হারের দায় কাঁধে নিয়ে বিধ্বস্ত কোচ জেন্নারো গাত্তুসো জানালেন, ‘সূঁচ ফোটালেও আজ শরীর থেকে রক্ত বের হবে না’।

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্র থেকে আরও একবার মুছে গেল নীল রঙের দাপট। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি আবারও ‘World Cup Qualification’ বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হলো। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে প্লে-অফের চূড়ান্ত বাধা পেরোতে পারল না আজ্জুরিরা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার জেনিকার স্টাডিওন বিলিনো পোলিয়েতে এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ইতালি। এই হারের মাধ্যমে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম ট্র্যাজিক অধ্যায় রচনা করল তারা—টানা তিনটি বিশ্বকাপ আসরে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে ইতালীয়দের।

মাঠের লড়াই ও রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকার

নির্ধারিত সময়ের খেলায় ইতালি ও বসনিয়া ১-১ গোলের সমতায় ছিল। ম্যাচের অধিকাংশ সময় ১০ জন নিয়ে লড়াই করেও ইতালি দাপট বজায় রেখেছিল এবং অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু ‘Tactical Discipline’ এবং দুর্দান্ত রক্ষণের জোরে বসনিয়া ম্যাচটি পেনাল্টি শুট-আউট পর্যন্ত টেনে নিতে সক্ষম হয়। টাইব্রেকারে স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়ে ইতালির খেলোয়াড়রা, যার সুযোগ নিয়ে ৪-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক বসনিয়া।

‘আমি অনুভূতিহীন হয়ে গেছি’: গাত্তুসোর আবেগঘন বয়ান

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইতালির কোচ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপের কিংবদন্তি খেলোয়াড় জেন্নারো গাত্তুসোকে দেখা গেল এক বিধ্বস্ত অবস্থায়। ২০০৬-এর বিশ্বজয়ী এই যোদ্ধা আজ ডাগআউটে বসে সাক্ষী হলেন তার দেশের চরম ব্যর্থতার। আরএআই (RAI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ ধাক্কা। আজ কেউ যদি আমাকে সূঁচ ফোটাতো, আমার শরীর থেকে রক্ত বের হতো না। আমি সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। এই জয়টা শুধু ফুটবলীয় ফল ছিল না, এটি আমাদের দেশ, আমাদের পরিবার এবং পুরো ইতালীয় ‘Football Movement’-এর জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।”

গাত্তুসো আরও যোগ করেন, “বহু বছর ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি অনেক আনন্দ আর জয়ের স্বাদ পেয়েছি, কিন্তু আজকের এই কষ্ট মেনে নেওয়া অসম্ভব। আমার খেলোয়াড়রা আজ মাঠে যে নিবেদন দেখিয়েছে, তা ছিল দেখার মতো। আমরা যেন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবল কখনও কখনও বড় বেশি নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে।”

টানা তিন বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি: একটি কালো অধ্যায়

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে আর দেখা যায়নি ইতালিকে। ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর এবার ২০২৬ আসর থেকেও ছিটকে যাওয়ায় দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন এক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ১২ বছর ধরে মূল পর্বের স্বাদ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং জাতীয় স্তরের এক ‘Existential Crisis’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ও পদত্যাগের ইঙ্গিত

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গাত্তুসো ওরফে ‘রিনো’ কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। এর আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে গতকাল তিনি বলেন, “আজ আমার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হলো ইতালি বিশ্বকাপে নেই। আমরা আজ যে পারফরম্যান্স করেছি তা মনে থাকবে, কিন্তু ফলাফলের কষ্টটা থেকে যাবে আজীবন।”

ইতালির এই বিদায় কেবল দেশটির ভক্তদের জন্যই নয়, বরং গ্লোবাল ‘Soccer Fans’-দের জন্যও এক বড় ধাক্কা। ইউরোপের অন্যতম ‘Powerhouse’ ছাড়াই আবারও পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবলের মহোৎসবের। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন কি আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটবে, নাকি এই নীল বিষাদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে?

Tags: football news world cup 2026 sports analysis penalty shootout fifa qualifiers italy world cup gennaro gattuso italy vs bosnia azzurri defeat football disaster