মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক করুণ শিকারে পরিণত হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) কর্মরত এক বাংলাদেশি প্রবাসী। দেশটির ফুজাইরাহ প্রদেশে এক ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তাসংস্থা ‘ডব্লিউএএম’ (WAM) এই শোকাবহ সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। মরুভূমির দেশে জীবিকার তাগিদে পাড়ি দেওয়া এই প্রবাসীর এমন অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী কমিউনিটিতে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শক্তিশালী ‘Air Defense System’ বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফুজাইরাহ অভিমুখে ধেয়ে আসা একটি ড্রোনকে সফলভাবে রুখে দেয়। আকাশে থাকা অবস্থায় ড্রোনটিকে ‘Intercept’ বা ভূপাতিত করা হলে এর বিধ্বংসী অবশিষ্টাংশ বা ‘Debris’ আল রিফা নামক এলাকার একটি বিশাল কৃষি খামারের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই মুহূর্তে খামারটিতে কাজ করছিলেন এক বাংলাদেশি শ্রমিক। ড্রোনটির জ্বলন্ত ও ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাসরি তার ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শ্রমিক সংগঠনের বক্তব্য
প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইউএই লেবার্স’ (UAE Labors) জানিয়েছে, ড্রোনটিকে যখন ধ্বংস করা হয়, তখন তা আল রিফার আকাশসীমায় অবস্থান করছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে সফলভাবে ধ্বংস করে বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে পারলেও, এর পতনশীল অংশ বা ‘Drone Fragment’ গুলো খোলা জায়গায় থাকা এই প্রবাসীর প্রাণ কেড়ে নেয়। তবে নিহত ওই বাংলাদেশির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত আমিরাত কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
সরকারি নির্দেশনা ও জরুরি সেবা কার্যক্রম
ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই আল রিফার ওই খামারে ‘Emergency Services’-এর কর্মীরা পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেন। আমিরাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব এড়াতে জনগণকে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে, তবে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সংঘাতের মাঝে প্রবাসীদের নিরাপত্তা সংকট
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা কৃষি খামার বা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যুদ্ধবিগ্রহের কোনো পক্ষ না হয়েও কেবল কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশের মাটিতে থাকা এই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকেই। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি উদঘাটনে কাজ করছে স্থানীয় পুলিশ।