ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৩৬ জনের বেশি (প্রকৃতপক্ষে ৩৪৬ জন) মুসলিম নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ এবং তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। দলটির দাবি, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পরিচালিত কাঠামোগত ও পরিকল্পিত জাতিগত নিপীড়নের (Ethnic Persecution) একটি অংশ।
পরিকল্পিত রাষ্ট্রহীনতার নীল নকশা
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলায় কয়েক পুরুষ ধরে বসবাসকারী মুসলিম পরিবারগুলোর ৩৩৬ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে আকস্মিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের ওপর আইনি দায় চাপানো হয়েছে যে, তারা যেন নতুন করে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করে। খোমেনী ইহসানের মতে, এটি ভারতের মুসলিমদের নাগরিক অধিকার সংকুচিত করে তাদের স্থায়ীভাবে ‘Stateless’ বা রাষ্ট্রহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।
বিপন্ন মৌলিক অধিকার ও আধার কার্ড জটিলতা
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার কার্ড (Aadhaar Card) নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা ব্যাংক হিসাব, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রেশনসহ সব ধরণের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এভাবে নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি
খোমেনী ইহসান তার বিবৃতিতে এই সংকটের একটি ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এর অভিঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও পড়ছে। ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে অধিকারচ্যুত করা বাংলাদেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার (Regional Stability) জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। ভারতের হিন্দুত্ববাদী এই নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।”
আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ মনে করিয়ে দেয় যে, সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR)-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির জাতীয়তার অধিকার রয়েছে। কোনো রাষ্ট্রই স্বেচ্ছাচারীভাবে কাউকে তার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাটি কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি জটিলতা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক বৈষম্যবিরোধী কনভেনশনগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ৩৪৬ জন মুসলিম নাগরিকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং তাদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, এই ধরণের ‘State-sponsored Oppression’ বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিপীড়ন দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।