ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল হিসেবে পরিচিত ইতালিকে আবারও বড় ধাক্কা সইতে হলো। বসনিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ইতালির জন্য হতে পারত গত এক দশকের ব্যর্থতার পাপমোচনের সুযোগ, কিন্তু টাইব্রেকারের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হলো তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হচ্ছে না নীল জার্সিধারীদের।
অসম লড়াইয়ে অবিশ্বাস্য হার কাগজ-কলমে ১২ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ইতালি এবং তাদের চেয়ে ৫৪ ধাপ নিচে থাকা বসনিয়ার লড়াইটি ছিল সব দিক থেকেই অসম। ইতালির জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ৬ কোটি, সেখানে বসনিয়ার মাত্র ৩৫ লাখ। এমনকি ইতালি দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বার্ষিক বেতন প্রায় ১০০ কোটি ইউরো, যার বিপরীতে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইতালির সাত ভাগের এক ভাগ মাত্র। অথচ মাঠের লড়াইয়ে সেই অর্থ বা পরিসংখ্যান কোনো কাজে আসেনি। জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে বসনিয়ার রূপকথার জয়োল্লাস দেখে স্তম্ভিত ফুটবল বিশ্ব।
লাল কার্ড ও ম্যাচের মোড় বদল ম্যাচের শুরুটা ইতালির জন্য আশাব্যাঞ্জক ছিল। মইসে কিন গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে আজ্জুরি সেন্টার ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে সেই সুযোগে দ্বিতীয়ার্ধে ইতালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে বসনিয়া। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচ গোল করে সমতা ফেরান।
টাইব্রেকারের ভাগ্য ও বিদায় ঘণ্টা নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা বিরাজ করায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ইতালির পিও এসপোসিটো এবং ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে গোল করতে ব্যর্থ হলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পায় বসনিয়া। বসনিয়ার হয়ে জয়সূচক পেনাল্টিটি জালে জড়ান এসমির বাজরাকতারেভিচ।
ইতালীয় ফুটবলের অন্ধকার অধ্যায় ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বাছাইপর্বে যথাক্রমে সুইডেন ও উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এটি ছিল ইতালির তৃতীয় টানা ব্যর্থতা। ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের এই বিদায়ের অর্থ হলো, ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে কোনো নকআউট ম্যাচ না খেলে তাদের অন্তত ১৬ বছর পার করতে হবে। কোচ জেনারো গাত্তুসো পরাজয় শেষে স্বীকার করেন, জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়—উভয় ক্ষেত্রেই ইতালি এখন কঠিন সময় পার করছে।