রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিমিয়া উপদ্বীপে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ২৯ জন আরোহীর প্রাণহানি ঘটেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বিমানে থাকা সকল আরোহীর সলিলসমাধি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষ
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল সোভিয়েত আমলের শক্তিশালী ‘AN-26’ (এএন-২৬) মডেলের একটি ‘Military Transport Plane’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে থাকার সময় হঠাৎ করেই রাডার থেকে বিমানটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ‘Air Traffic Control’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছু সময় পর বিমানটি ওই অঞ্চলের একটি পাহাড়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে বিধ্বস্ত হয়। বিমানে মোট ২৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন অভিজ্ঞ ‘Crew Member’ ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত কোনো জীবিত আরোহীর সন্ধান পায়নি।
যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কিছু?
প্রাথমিক তদন্ত শেষে রুশ সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার পেছনে ‘Technical Glitch’ বা গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া কেমন ছিল বা পাইলট কোনো ‘Emergency Signal’ পাঠিয়েছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিমানটির ‘Black Box’ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে।
বিতর্কিত ক্রিমিয়া ও এন-২৬ বিমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে রাশিয়ার এই ভূখণ্ড ‘Annexation’ বা অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই সেখানে নিশ্ছিদ্র সামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়। রাশিয়ার এই সামরিক পরিবহনের নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও পাহাড়বেষ্টিত এই অঞ্চলে প্রায়ই উড্ডয়ন ঝুঁকি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ‘AN-26’ মডেলের বিমানটি কয়েক দশক ধরে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে অন্যতম প্রধান পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে পুরনো প্রযুক্তির এই বিমানটি নিয়ে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। ইতিপূর্বেও এই মডেলের বিমান বেশ কয়েকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, যা রাশিয়ার ‘Aviation Safety’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ক্রিমিয়া পরিস্থিতির কারণে এই বিমান বিধ্বংসের ঘটনায় কোনো নাশকতার যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে হামলার দাবি করা হয়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান