চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি দলটি। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটি হাভিয়ের কাবরেরার দলের জন্য দুর্ভাগ্য হয়েই রইলো। অধরাই থেকে গেলো জয়। সিঙ্গাপুর ১-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে একাদশে দুই পরিবর্তন এনে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মিতুল মারমা ও শেখ মোরসালিন শুরু থেকেই খেলেছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩ ধাপ এগিয়ে থাকা স্বাগতিকদের শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা ছিল হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের। একাধিক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন মোরসালিন-হামজারা। তবে দুর্ভাগ্য, অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বারবার ছন্দ হারাতে হয়েছে। স্বাগতিক গোলকিপারকে বড় কোনও পরীক্ষায় ফেলা যায়নি।
৭ মিনিটে ফাহমিদুলের ডান প্রান্তের ক্রসে মোরসালিন কিংবা ফাহিম—কেউই পা ছোঁয়াতে পারেননি। ১১ মিনিটে সিঙ্গাপুর সুযোগ পেলেও ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হয়। চার মিনিট পর সাদ উদ্দিনের ক্রসে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি শমিত সোম; বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
এরপর কিছুটা সময় সিঙ্গাপুর দাপট দেখায়। ১৯ মিনিটে হারিস স্টুয়ার্টের জোরালো শট হামজা কাঁধ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। পরের মিনিটে ইকসান ফান্দির শট গোলকিপার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে শরীর দিয়ে রুখে দেন। ২৪ মিনিটে আবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ, কিন্তু সফল হতে পারেনি। সোহেল রানার জোরালো শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়।
৩০ মিনিটে ফাহিমের শটও একইভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই প্রতি আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। বাম প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা গ্লেন কুয়ের শট বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিতুল মারমা ফিরিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল থেকেই বিপদ তৈরি হয়। ইকসান ফান্দির পাস থেকে ডান প্রান্তে থাকা হ্যারিস স্টুয়ার্ট জাল খুঁজে নেন। তাকে আটকাতে পারেননি তারিক কাজী ও শাকিল আহাদ তপু।
৩৯ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। ফাহিমের পাসে বক্সে ঢুকে মোরসালিনের গড়ানো শট বাহার উদ্দিন রুখে দেন। ফিরতি বলে ফাহিম চেষ্টা করলেও সফল হননি।
বিরতির পর বাংলাদেশের দাপট আরও বেড়ে যায়। আক্রমণের সংখ্যাও কম ছিল না, তবে অন টার্গেট শট ছিল কম। শুরুর দিকে মোরসালিনের ক্রসে হামজা সাইড ভলি নেওয়ার চেষ্টা করলেও সামনে থাকা শাকিল আহাদ তপুর কারণে তা সফল হয়নি।
৫৯ মিনিটে ফাহমিদুলের ডান প্রান্তের ক্রস সরাসরি গোলকিপারের গ্রিপে যায়। এরপর পর্যায়ক্রমে পাঁচটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমন, বিশ্বনাথ ও মিরাজুলরা নেমে আক্রমণে গতি আনলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি।
৭৫ মিনিটে বিশ্বনাথের পাসে হামজার গড়ানো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। চার মিনিট পর ম্যাচের সেরা সুযোগটি হাতছাড়া হয়। ডান প্রান্ত থেকে হামজার চমৎকার মাপা ক্রসে মিরাজুলের পা ছোঁয়ানো বল পোস্টের নিচে লেগে ফিরে আসে, হতাশা ডুবিয়ে দেয় সবাইকে।
৮২ মিনিটে ৬ গজের মধ্যে বল পেয়েও সাদ কিংবা শমিত—কেউই লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
৩০ হাজার ১০০ দর্শকের উপস্থিতিতে স্বাগতিকরা তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে। আর শেষ ম্যাচে হেরে হতাশায় ডুবে যায় বাংলাদেশ।