উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (UCL) প্লে-অফ রাউন্ডের ভাগ্য নির্ধারণী দ্বিতীয় লেগে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকা। ঐতিহাসিক সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করার মিশনে নামছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। তবে ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা থাকলেও পূর্ণ স্বস্তিতে নেই ১৫বারের চ্যাম্পিয়নরা। দলের প্রধান গোলমেশিন কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুপস্থিতি এবং চোট-নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে রিয়ালকে।
এমবাপ্পে-হীন আক্রমণভাগ: রিয়ালের বড় দুশ্চিন্তা মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না তারা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ ম্যাচে ৩৩ গোল করা এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ভোগাচ্ছে পুরোনো হাঁটুর সমস্যা (Knee Injury)। গত ডিসেম্বর থেকে এই ইনজুরি এমবাপ্পের পিছু ছাড়ছে না।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া জানিয়েছিলেন যে এমবাপ্পে খেলার জন্য ফিট (Fit), কিন্তু শেষ মুহূর্তের শারীরিক মূল্যায়নে তাঁকে ঝুঁকিহীন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের প্রধান ‘ম্যাচ উইনার’-কে ছাড়া আক্রমণভাগ সাজানো এখন আরবেলোয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রথম লেগের তিক্ত স্মৃতি ও ভিনিসিয়ুস ফ্যাক্টর লিসবনে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। একমাত্র জয়সূচক গোলটি এসেছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। তবে সেই ম্যাচ ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ‘রেসিজম’ বা বর্ণবাদী আচরণের জন্য। ভিনির প্রতি গ্যালারি থেকে আসা বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। সেই উত্তেজনার রেশ বার্নাব্যু অবধি পৌঁছাবে তা বলাই বাহুল্য। এমবাপ্পের অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগের পুরো ভার এখন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুসের কাঁধে। তাঁর সঙ্গে গঞ্জালো গার্সিয়া, ব্রাহিম দিয়াস কিংবা মাস্তানতুয়েনোদের ওপর নির্ভর করতে হবে কোচকে।
চোট আর নিষেধাজ্ঞার মিছিল: আরবেলোয়ার কঠিন পরীক্ষা রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ফর্ম কিছুটা ‘অস্থির’। লা লিগায় ওসাসুনার কাছে ২-১ গোলের হার তাদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরিয়েছে। তার ওপর চোটের তালিকায় আছেন জুড বেলিংহ্যাম ও এদের মিলিতাও। যদিও তাঁরা স্কোয়াডে ফিরতে মরিয়া, তবে পুরোপুরি ফিটনেস না থাকায় শুরু থেকে খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মিডফিল্ডে বড় অভাব অনুভূত হবে রদ্রিগোর, যিনি কার্ডজনিত কারণে নিষেধাজ্ঞায় (Suspended) রয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ বেনফিকাও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। প্রথম লেগে রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন তাদের ডাগআউটের কান্ডারি হোসে মরিনিও। মাঠের বাইরে থেকে দলকে দিকনির্দেশনা দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হবে, যা রিয়ালের জন্য কিছুটা হলেও প্লাস পয়েন্ট।
নিশ্চিত জয়ের সন্ধানে রিয়াল মাদ্রিদ এক গোলের লিড নিয়ে ঘরের মাঠে নামলেও বার্নাব্যু জানে ফুটবল কতটা অনিশ্চিত। রক্ষণভাগে মিলিতাওর অভাব এবং মাঝমাঠে রদ্রিগোর অনুপস্থিতি রিয়ালের ‘ট্যাকটিক্যাল’ (Tactical) কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজাদের ডিএনএ-তে আছে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। এমবাপ্পেকে ছাড়া রিয়াল কি পারবে তাদের ট্রেডমার্ক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে? নাকি বেনফিকা ঘটাবে বড় কোনো অঘটন? উত্তর দেবে বার্নাব্যুর ৯০ মিনিটের টানটান উত্তেজনা।